হিরোর মাইলেজ কিং এই বাইকের দাম মাত্র ৬০ হাজার

হিরোর মাইলেজ কিং এই বাইকের দাম মাত্র ৬০ হাজার

ফাইল ছবি

হিরো মোটোকর্প তাদের এইচএফ ডিলাক্স ক্যানভাস ভ্যারিয়েন্টের দাম ৭৬৩৫ রুপি কমিয়েছে। দাম কমার পর এই বাইকটির এক্স-শোরুম মূল্য ভারতে এখন দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৯৯৯ রুপি। ভারতের মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তিশগড়—এই চারটি রাজ্যে নতুন এই মূল্য কার্যকর করা হয়েছে। 

হিরো এইচএফ ডিলাক্স হলো হিরো মোটোকর্পের একটি এন্ট্রি-লেভেল কমিউটার মোটরসাইকেল। এর ক্যানভাস ব্ল্যাক এডিশনে সম্পূর্ণ কালো রঙের থিম ব্যবহার করা হয়েছে। বাইকটিতে রয়েছে কালো অ্যালয় হুইল, কালো পিলিয়ন গ্র্যাব রেল এবং কালো এক্সহস্ট হিট শিল্ড, যা একে আরও আকর্ষণীয় লুক দিয়েছে।

মাইলেজ কিং বলা হয় যে বাইককে

বাইকটিতে রয়েছে ৯৭.২ সিসি এয়ার-কুলড, সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন থেকে ৮,০০০ আরপিএম-এ ৭.৮ বিএইচপি শক্তি এবং ৬,০০০ আরপিএম-এ ৮.০৫ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন হয়। ইঞ্জিনের সঙ্গে রয়েছে ৪-গতির গিয়ারবক্স।

হিরো এইচএফ ডিলাক্স একটি টিউবুলার ডাবল-ক্র্যাডল ফ্রেমের ওপর নির্মিত। সাসপেনশনের জন্য সামনে রয়েছে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পেছনে ডুয়াল শক অ্যাবজরবার। ব্রেকিংয়ের ক্ষেত্রে রয়েছে সামনে ও পেছনে ১৩০ মিমি ড্রাম ব্রেক। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হিরো মোটোকর্পের এই মূল্য ছাড় বাজারে তাদের হারানো অংশীদারিত্ব ফিরে পাওয়ার একটি মরিয়া চেষ্টা মাত্র।

বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে হিরো

২০২৬ সালের জুলাই মাসের বাহন পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, বিক্রির দিক থেকে হিরো ইতিমধ্যেই হোন্ডার থেকে প্রায় ২৫ হাজার ইউনিট পিছিয়ে রয়েছে। একই সময়ে টিভিএস-ও হিরোর থেকে মাত্র ২৫ হাজার ইউনিট পেছনে অবস্থান করছে। অর্থাৎ, দেশের শীর্ষ তিনটি মোটরসাইকেল নির্মাতার মধ্যে ব্যবধান এখন মাত্র ৫৫ হাজার ইউনিট।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হিরো মোটোকর্প এখন স্পষ্টতই চাপের মুখে রয়েছে। কারণ তাদের ৯৭.২ সিসি প্ল্যাটফর্ম ছাড়া অন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম বাজারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাচ্ছে না। এমনকি বিএস-৬ সংস্করণের ৯৭.২ সিসি ইঞ্জিনেও একাধিক প্রযুক্তিগত ত্রুটির অভিযোগ সামনে এসেছে।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও আধুনিক আপডেট

আগামী দিনে হিরো মোটোকর্পের সামনে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, হিরো এখনও এইচএফ ডিলাক্সের মতো পুরনো প্ল্যাটফর্মের মোটরসাইকেল বিক্রি করতেই বেশি স্বচ্ছন্দ, কারণ এর মূল ক্রেতারা হলেন গিগ ওয়ার্কার, দৈনন্দিন যাতায়াতকারী এবং গ্রামীণ এলাকার মানুষ।

তবে বর্তমান সময়ের চাহিদা মেটাতে এই মোটরসাইকেলটিকে ২০২৬ সালের আধুনিক মানদণ্ড অনুযায়ী আপডেট করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইকটিতে অন্তত সিঙ্গল-চ্যানেল এবিএস, স্ট্যান্ডার্ড ডিস্ক ব্রেক এবং পুরনো বিএস-৩ সুপার স্প্লেন্ডার ও গ্ল্যামার মডেলের মতো স্কোয়ার সুইংআর্ম সেটআপ থাকা উচিত।