বিয়ে বাড়িতে প্রেমিকার উপস্থিতি, পরে বরের বাবার মরদেহ উদ্ধার
প্রতিকি ছবি
নেত্রকোনার পূর্বধলায় বিয়ের বাড়িতে এক তরুণী নিজেকে বরের প্রেমিকা দাবি করে উপস্থিত হওয়ার পর ভেঙে যায় বিয়ে। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বরের বাবা আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। বুধবার(২৯ জুলােই) রাতে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা (পূর্বপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গতকাল দুপুরে সুরুজ মিয়া তার ছেলে হেলাল মিয়াকে(২২) বিয়ে করাতে বড়যাত্রীসহ পাশের হিরনপট্টি গ্রামে যান। খাওয়া দাওয়াসহ বিয়েও সম্পন্ন হয়। এমন সময় আনুমানিক বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে কুড়িগ্রাম জেলার কচাকাটা থানার কবিরাজপাড়া এলাকা থেকে দুই নারী এসে হাজির হন বিয়ে বাড়িতে।
মামাতো বোনকে নিয়ে আসা একজন নারী(২৮) দাবি করেন হেলাল মিয়ার সঙ্গে প্রায় বছর খানেক ধরে প্রেম চলছিলো। তারা একসঙ্গে থেকেছেন। বিয়েরও কথা ছিল। প্রেমের জন্য তিনি এক সন্তান রেখেই স্বামীকে তালাকও দিয়েছেন। এখন অন্যত্র বিয়ের খবরে তিনি এখানে এসেছেন। এই ঘটনায় বিয়ে বাড়িতে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
উপস্থিত হওয়া প্রেমিকা দাবি করা তরুণী বলেন, ২৮ জুলাই তাকে বিয়ের কথা থাকলেও হেলাল মোবাইল ফোন বন্ধ করে পালিয়ে বাড়িতে চলে আসলে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন প্রেমিক বিয়ে করছে। তাই সরাসরি বিয়ে বাড়িতে এসেছেন।
এমন ঘটনায় মুহূর্তেই বিয়ে বাড়ির পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যার কারণে বিয়েটি তাৎক্ষণিক ভেঙ্গে যায়। পরে বরের লোকজন কনে পক্ষকে জরিমানা বাবদ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়। এরপর সন্ধ্যায় বরকে নিয়ে বরের বাবা ক্ষমা চেয়ে বাড়ি ফিরেন। ওই বাড়ির লোকজন আবার দুই নারীকে আটকে রাখেন।
এদিকে রাত ১১ টার দিকে সুরুজ মিয়ার স্ত্রী হেলেনা বেগম তার স্বামীকে বাড়ির সামনে আমগাছে ঝুলে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা এসে পুলিশকে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে আটকে রাখা নারীদের থানা হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়দের মতে, বিয়ের বাড়ির ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় হেলাল মিয়া আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সুরুজ মিয়ার ভাই বাদী হয়ে জান্নাতি নামের প্রেমিকা দাবী করা নারীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।