গ্যাস সংকটে রাজধানীর সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি

গ্যাস সংকটে রাজধানীর সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি

ছবিঃ সংগৃহীত।

রাজধানীতে গ্যাস সংকট কাটছে না। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা চালক, রাইড শেয়ার চালকসহ গ্যাসচালিত যানবাহনের মালিকরা।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোথাও গ্যাসের চাপ খুবই কম, আবার কোথাও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে সকাল থেকেই স্টেশনগুলোতে সিএনজি অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য গ্যাসচালিত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আবার সরবরাহ শুরু হলেও চাপ কম থাকায় একটি গাড়িতে গ্যাস নিতে দীর্ঘ সময় লাগছে।

এক সিএনজি চালক বলেন, আগে যেখানে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হতো, এখন গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে থাকায় আয় নেমে এসেছে অর্ধেকেরও নিচে।

রাইড শেয়ার চালকরাও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, যাত্রী পেলেও গ্যাসের অভাবে নিয়মিত ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে আয় কমার পাশাপাশি যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এদিকে, সিএনজির দাম ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবের খবরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, সংকটের মধ্যে দাম বাড়ানো হলে পরিবহন ব্যয় আরও বেড়ে সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়বে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি সমস্যার কারণে দেশে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। বর্তমানে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে, যেখানে চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট।

এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সংকট আরও কয়েকদিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর প্রভাব পড়ছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন, বাসাবাড়ি, শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতেও।