প্যারালিগ্যালদের কাজ কেবল একটি পেশা নয়, এটি জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী
ফাইল ছবি
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্যারালিগ্যালদের কাজ কেবল একটি পেশা নয়; এটি জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মানুষের দোরগোড়ায় আইনি অধিকার ও আইনগত সেবা পৌঁছে দিয়ে ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে প্যারালিগ্যালরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের ক্রাউন প্লাজা ঢাকায় বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর (ডিবিএলএ) ও ফ্রেন্ডশিপের যৌথ উদ্যোগে প্রণীত ‘ফ্রেন্ডশিপ কমিউনিটি প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আইনজীবী হওয়ার আগেই তিনি প্যারালিগ্যাল হিসেবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে আইনগত সচেতনতা তৈরির কাজ করেছেন। ফলে প্যারালিগ্যালদের ভূমিকা ও গুরুত্ব সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত তথ্য ও সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্যারালিগ্যারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এবং রূপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে অধিকারবিষয়ক সচেতনতা পৌঁছে দিতে ফ্রেন্ডশিপ যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা দেশের অন্যতম সেরা উদ্যোগ। এ ধরনের কার্যক্রম ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
মন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক ব্যয় কমিয়ে উপকারভোগীদের জন্য বরাদ্দ আরও বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আরও বেশি উপকৃত হবে।
তিনি প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালকে আরও সহজ, সংক্ষিপ্ত ও ব্যবহারবান্ধব করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিষয়গুলো সহজ ভাষা, চিত্র ও সারসংক্ষেপের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলে মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্যারালিগ্যালদের জন্য তা আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, প্রতিকার পাওয়ার উপায় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সম্পর্কে সহজবোধ্য ধারণা ম্যানুয়ালে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্যারালিগ্যালদের মানুষের পাশে থেকে নিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। তাদের মনে রাখতে হবে, এটি শুধু একটি চাকরি নয়; বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও জনসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ কাজে আন্তরিকতা ও অঙ্গীকার থাকলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েস, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসাইন এবং ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র পরিচালক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিকত্ব বিভাগের প্রধান আয়েশা তাসিন খান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘ফ্রেন্ডশিপ কমিউনিটি প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল’ তৃণমূল পর্যায়ে প্যারালিগ্যালদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আইনগত সচেতনতা সম্প্রসারণ এবং ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। ম্যানুয়ালটি মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্যারালিগ্যালদের জন্য একটি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সহায়িকা হিসেবে ব্যবহৃত হবে।