খুবই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’, সীতাকুণ্ডের ঘটনায় তদন্তের পর ব্যবস্থা: অর্থমন্ত্রী
ফাইল ছবি
সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসেছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে ও নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে হাসপাতালে গিয়ে ঘটনাটিকে ‘খুবই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ বলে মন্তব্য করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হবে।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারও পক্ষে বা বিপক্ষে যাওয়ার বিষয় নেই। সরকারের দায়িত্ব তদন্ত করে সঠিক তথ্য বের করে আনা।
তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৮ জনের লাশ মেডিকেল কলেজে এসেছে।
বাকি খবর এখনো পাওয়া যায়নি। ’
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনই মন্তব্য না করে আমির খসরু বলেন, তদন্তে যা পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘এখানে কারও পক্ষে বিপক্ষে কিছু নেই। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে তদন্ত করে সঠিক তথ্যটা বের করে আনা এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করা।
এছাড়াও নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
দুর্ঘটনার পরও গ্যাসের লিকেজ রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেটি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর এক্সপ্লোসিভ টিম ঘটনাস্থলে গেছে। গ্যাসের বিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
এসময় শিপব্রেকিং শিল্পে গ্রিন ইয়ার্ডের কমপ্লায়েন্সের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান আমির খসরু।
এসব বিষয়ে ইন্সপেকশনও চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, হংকং চার্টারের নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া পূরণ করলে তাদের পক্ষ থেকে গ্রিন ইয়ার্ডের সনদ দেওয়া হয়। তবে কোনো কমপ্লায়েন্সের ঘাটতি বা অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও চেম্বারের পরিচালক এসএম সাইফুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।