“ফ্যাসিবাদ চক্রের লুটপাটে শিক্ষকদের তহবিলও রেহাই পায়নি”
ছবিঃ সংগৃহীত।
ফ্যাসিবাদ চক্রের লুটপাটের কারণে শিক্ষকদের তহবিলও রেহাই পায়নি। জাল ইনডেক্স তৈরি করে দেউলিয়া করে দেয়া হয়েছিল এ তহবিলও বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে ব্যাঙ্ক বীমাসহ প্রতিটি সেক্টর থেকে লুটপাট করেছিল, সেই লুটপাটের কবল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত তহবিলও রেহাই পায়নি।
জাল ইনডেক্স তৈরি, লুটপাটের সুযোগ তৈরী করতে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে ধ্বংস করার মাধ্যমে এই তহবিল প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক -কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল কলেজ এবং মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১শ’ ১৯ জন শিক্ষক শিক্ষিকা, ২০২২ সালের পর অর্থাৎ দীর্ঘ চার বছর পর সরকারি দু'টি ফান্ডে তাদের জমানো টাকার একটি অংশ আজ ফেরত পেয়েছেন।
সরকার প্রধান বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এই অনুষ্ঠানে আজ আমি গভীর শ্রদ্ধায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে চাই, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শিক্ষিকাদের কল্যানে তার উদ্যোগেই ১৯৯১ সালে 'বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট' এবং ২০০২ সালে 'অবসর সুবিধা বোর্ড' প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি এই তহবিলে সরকারি ফান্ড থেকে প্রথমে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন এবং পর্যায়ক্রমে ৮৯ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করে এই তহবিলের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেন।
তারেক রহমান বলেন, মরহুমা খালেদা জিয়া বরাবরই শিক্ষা-শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষার্থী সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করতেন। বিশেষ করে নারীদের একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে তার উদ্যোগ এবং ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
শিক্ষা বিস্তারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার চালু করা, 'শিক্ষা উপবৃত্তি এবং নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ' শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে 'মডেল' হিসেবে অনুসরণ করছে।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত দুটি তহবিলে শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ প্রতিমাসে যে টাকা জমা দেন সেই টাকার সঙ্গে সরকারও প্রতিটি একাউন্টের বিপরীতে নির্দিষ্টহারে একটি 'এমাউন্ট' জমা করেন।
এর উদ্দেশ্য হলো, দীর্ঘ চাকুরী জীবন শেষে অবসর যাওয়ার সময় প্রত্যেক শিক্ষক শিক্ষিকা যাতে একটি ভালো 'এমাউন্ট' হাতে পান। উদ্দেশ্যও মহৎ হলেও দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, "চাকুরী জীবন শেষে অবসরে গিয়ে এই টাকা উত্তোলন করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরকে নানাধরণের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
এমনকি নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে মনে হয় ঘুষ দেয়ার অলিখিত নিয়মও চালু হয়ে গিয়েছিলো। আজ আমরা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোনোরকম ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে তাদের প্রাপ্য টাকা যার যার ব্যাঙ্ক একাউন্টে পাঠিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন,শিক্ষক সমাজ যারা নীতি নৈতিকতা আর আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো কোটি শিক্ষার্থীদেরকে বড়ো করে তুলেন, তাদেরকেই যদি ঘুষ দিয়ে টাকা তুলতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, আমি মনে করি, সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয় বরং জাতি হিসেবে আমাদের 'দীনতা - হীনতা'ই প্রকাশ পায়।
সরকার প্রধান বলেন, যতদিন আপনাদের নির্বাচিত বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে আপনাদেরকে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবেনা। আমাদের চেষ্টা থাকবে যাতে আপনাদের আর কোনো ভোগান্তি পোহাতে না হয়।
আর কোনো মধ্যস্বত্তভোগীর যন্ত্রনা সইতে হবেনা। আগামী দিনগুলোতে যথাসময়ে অনলাইনে আপনাদের প্রাপ্য টাকা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই আপনাদের একাউন্টে পৌঁছে যাবে ইন শা-আল্লাহ।