স্কুলের ওপর ভেঙে পড়া গাছ ৪ মাসেও সরেনি, ব্যাহত পাঠদান
সংগৃহীত ছবি
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেমিপাকা ঘরের ওপর কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে পড়া বিশাল আকৃতির চাম্বল গাছ চার মাসেও অপসারণ করা হয়নি। এতে স্কুলঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে একটি কক্ষে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি গাছের ডালপালা পড়ে থাকায় বিদ্যালয়ের মাঠেও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৩ মে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের পেছনে থাকা বিশাল আকৃতির চাম্বল গাছটি টিনশেড ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে ঘরটির বেশিরভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে ওই কক্ষে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ঘটনার প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও গাছটি এখনো অপসারণ করা হয়নি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গাছটি সরকারি হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি ছাড়া তা অপসারণ করা সম্ভব নয়। ফলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটি চাইলেও নিজেদের উদ্যোগে গাছটি সরাতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গাছটি পড়ে থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর ও গাছের কারণে শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। তাঁরা দ্রুত গাছটি অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘরটি মেরামতের দাবি জানান।
সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুর রহমান বলেন, ‘গত মে মাসে কালবৈশাখী ঝড়ে স্কুলঘরের পেছনে থাকা বিশাল আকৃতির একটি গাছ ভেঙে পড়ে। ঘটনার দুই দিন পরই সরকারি বিধি মেনে গাছটি দ্রুত অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত গাছটি অপসারণ করা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘ওই ঘরে শিশু শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হতো এবং আমাদের অফিস রুমও ছিল। গাছটি সরিয়ে ভেঙে পড়া টিনশেড ঘরটি মেরামত করা হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান সহজ হবে। পাশাপাশি গাছের ডালপালা পড়ে থাকায় মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলাও করতে পারছে না।’
সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, ‘গাছটি ভেঙে পড়ার কয়েকদিন পরই সরকারি বিধি অনুযায়ী বন বিভাগকে চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি, বন বিভাগ দ্রুত নিলামের কার্যক্রম শেষ করে গাছটি অপসারণ করবে।’