সীতাকুণ্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু: মেলেনি বিষাক্ত গ্যাস, ঢাকায় যাচ্ছে নমুনা

সীতাকুণ্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু: মেলেনি বিষাক্ত গ্যাস, ঢাকায় যাচ্ছে নমুনা

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে স্ক্র্যাপ জাহাজে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিদর্শনে গিয়ে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পায়নি বুয়েট শিক্ষকের নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দলটি গ্যাস লিকেজের স্থানে পৌঁছে মাটি, পানি, বাতাসসহ প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে। 

এ সময় ব্যালাস্ট ট্যাংকের যে অংশটি কাটা হয়েছিল, সেখান থেকে পানি নির্গত হতে দেখা গেছে। পানির সঙ্গে ক্ষতিকর উপাদান ছড়িয়ে যাওয়ার ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। সংগৃহীত পানি ও স্লাজ চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। একইসঙ্গে বাকি দুটি ট্যাংকও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশেষজ্ঞ দলটি।

গত শুক্রবারের এই দুর্ঘটনা তদন্তে শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত বিশেষজ্ঞ দলের সাত সদস্য এবং তদন্ত কমিটির সদস্যরা দ্বিতীয়বারের মতো জাহাজটিতে প্রবেশ করেন। এর আগে গত সোমবারও তারা সেখানে গিয়েছিলেন। তবে সেদিন তারা ব্যালাস্ট ট্যাংক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি। মঙ্গলবার সব ধরনের সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করে দলটির সদস্যরা ব্যালাস্ট ট্যাংকের নিকটে যে অংশে গ্যাস লিকেজ হয়েছিল সেখানে পৌঁছায়। তাদের সঙ্গে সামুদ্রিক প্রকৌশলে অভিজ্ঞ বেসরকারি সংস্থা প্রান্তিক মেরিন সার্ভিসেস ও আলিফ মেরিন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসের কর্মীরাও সেখানে যান।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এএসএম শফিউল আলম তালুকদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা ব্যালাস্ট ট্যাংকের নিকটে পৌঁছেছে। সেখানে দেখা গেছে, ট্যাংকটির একটি অংশ বর্গাকৃতিতে ৬৪ বর্গইঞ্চি কাটা হয়েছে। তবে কাটা অংশটি এখনো জাহাজের অন্য অংশের সঙ্গে সংযুক্ত। মূলত ওই অংশ কাটার পর ভেতর থেকে বাইরে বাতাস চলাচলের রাস্তা তৈরি হয়। সেই অংশ দিয়েই বিষাক্ত গ্যাসগুলো বাইরে এসেছে।’

তিনি জানান, মঙ্গলবার ওই অংশ দিয়ে ট্যাংকের ভেতর থেকে পানি বের হয়ে আসছে। এ সময় গ্যাস ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করে কোনো ধরনের গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অন্য কোনো ক্ষতিকর উপাদানও পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞ দলের সংগৃহীত পানি ও স্লাজ (পানি, তেল ও কঠিন ময়লার ঘনমিশ্রণ) পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকায় উপযুক্ত পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন এলে চূড়ান্ত নিরাপত্তা কৌশল (প্রটোকল) ঠিক করে পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে।

পরিদর্শন দলে থাকা পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় হাইড্রোজেন সালফাইডের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ট্যাংকটিতে জোয়ারের পানি ঢুকে আবার বের হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, জোয়ারের পানি বা বাতাসের সঙ্গে মিশে গ্যাস সরে গেছে। ট্যাংকটির পানি অপসারণ করে ভেতরের পরিবেশও পরীক্ষা করা হবে। জাহাজে থাকা বাকি দুটি ট্যাংকও পরীক্ষা করা হবে।

অপমৃত্যুর মামলা
এদিকে এমটি রাসি নামের ওই পুরোনো স্ক্র্যাপ জাহাজে দুর্ঘটনার পঞ্চম দিনে এসে অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করেছে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের কেউ মামলা করতে না আসায় সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে মামলাটি দায়ের করা হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর হতাহতদের পরিবারের কেউ মামলা করতে চাননি। এ কারণে পুলিশ বাদী হয়ে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে। ফরেনসিক ও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ভাটিয়ারী উপকূলে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর শিল্প মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও ইয়ার্ড মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে এসব তদন্ত দলের কেউ গ্যাস লিকেজের উৎসে যেতে ব্যর্থ হওয়ায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বুয়েটের একজন অধ্যাপককে প্রধান করে বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়। গত দুইদিন ওই দলটি গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে কাজ করছে।