মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

প্রতিকি ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘প্রয়াস’ নামে একটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে মো. ফোরকান মিয়া (২৯) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, কেন্দ্রটির লোকজন মারধর করে তাকে হত্যা করেছেন। তবে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ‘প্রয়াস’ মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ফোরকান মিয়া নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের রশিদ মিয়ার ছেলে। বুধবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই ইমন মিয়া জানান, ফোরকান কাতারপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক মাস আগে দেশে ফেরার পর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ৭০ হাজার টাকায় তিন মাসের জন্য তাকে ‘প্রয়াস’ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কেন্দ্র থেকে ফোন করে জানানো হয়, ফোরকান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে ফোরকানকে না পেয়ে পরে পুনর্বাসন কেন্দ্রে গিয়ে ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে একটি লাশবাহী গাড়িতে তার মরদেহ দেখতে পান।

তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রটির কার্যালয়ে বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল এবং সংশ্লিষ্টরা চলে গিয়েছিলেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার দাবি, কোনো চিকিৎসা না দিয়ে কেন্দ্রের লোকজন ফোরকানকে মারধর করে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

তবে ‘প্রয়াস’ মাদক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক মো. রুবেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফোরকান বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক নাজমুল হক রনি বলেন, ফোরকানকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

এ ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।