রান্নাঘরের টবেই লাগানো যাবে যে ৭ উপকারী হার্ব

রান্নাঘরের টবেই লাগানো যাবে যে ৭ উপকারী হার্ব

ফাইল ছবি

রান্নাঘরের জানালার পাশে কিংবা বারান্দার ছোট্ট টবে সহজেই কিছু হার্ব চাষ করা যায়। এসব গাছ রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোর পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ হওয়ায় খাবারের তালিকায় বাড়তি পুষ্টিও যোগ করতে পারে

বাড়িতে খুব বেশি জায়গা না থাকলেও কয়েকটি টবেই এসব হার্ব রাখা সম্ভব। নিয়মিত যত্ন নিলে প্রয়োজনের সময় নিজের গাছ থেকেই তাজা পাতা তুলে রান্নায় ব্যবহার করা যায়।

১. রোজমেরি

রোজমেরি সুগন্ধি একটি হার্ব, যা রান্নায় বেশ জনপ্রিয়। এতে রোজম্যারিনিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে।

এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

রোজমেরি অতিরিক্ত পানি পছন্দ করে না। তাই টবে চাষ করলে পানি বের হওয়ার ভালো ব্যবস্থা থাকা জরুরি। পর্যাপ্ত রোদ পেলে এটি ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।

বারান্দা বা জানালার পাশে টবে রোজমেরি রাখা যেতে পারে। এর পাতা মাংস, গ্রিল বা রোস্ট করা সবজি এবং বিভিন্ন বেক করা খাবারে ব্যবহার করা যায়।

২. তুলসী

তুলসী আমাদের দেশে খুব পরিচিত একটি গাছ। এতে ইউজেনলসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। এগুলো শরীরে ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে।

বাড়িতে তুলসী চাষ করাও বেশ সহজ। বীজ থেকে যেমন চাষ করা যায়, তেমনি গাছের ডাল বা কাটিং থেকেও নতুন গাছ তৈরি করা সম্ভব।

তুলসী গাছের জন্য পর্যাপ্ত রোদ দরকার। টবের মাটি একেবারে শুকিয়ে যাওয়ার আগেই প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দিতে হবে।

তাজা তুলসী সালাদ, পানীয় এবং বিভিন্ন ঘরোয়া খাবারে ব্যবহার করা যায়। তবে আমাদের দেশের তুলসী ও রান্নায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের বাসিল এক জিনিস নয়—চাষের আগে গাছের ধরন নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।

৩. থাইম

থাইমে থাইমল ও ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে, যেগুলোর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই হার্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শ্বাসযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে পরিচিত।

থাইমের বড় সুবিধা হলো, এটি খুব বেশি যত্ন চায় না। অতিরিক্ত পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই এবং পর্যাপ্ত রোদ পেলে টবেও ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

স্যুপ, স্টু, মাংসের ম্যারিনেড কিংবা বিভিন্ন রান্নায় মসলা হিসেবে থাইম ব্যবহার করা যায়।

৪. পুদিনা

পুদিনা বাংলাদেশের রান্নাঘরে সবচেয়ে পরিচিত হার্বগুলোর একটি। এতে মেনথল ও কারনোসিক অ্যাসিড রয়েছে। পুদিনা হজমে সহায়তা করতে এবং শরীরকে সতেজ অনুভূতি দিতে পারে।

বাড়িতে পুদিনা চাষ করা তুলনামূলক সহজ। এমনকি ছোট টবেও এটি দ্রুত বেড়ে ওঠে। তবে পুদিনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই আলাদা টবে লাগানো ভালো।

পুদিনার পাতা চা, লেবুর শরবত, সালাদ, চাটনি, ফুচকার টক বা বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা যায়।

৫. অরিগানো

পিজ্জা বা পাস্তার সঙ্গে পরিচিত যারা, তাদের কাছে অরিগানো বেশ পরিচিত নাম। এতে কারভাক্রলসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে।

অরিগানো সাধারণত রোদযুক্ত ও তুলনামূলক শুষ্ক পরিবেশে ভালো বেড়ে ওঠে। তাই টবে লাগালে এমন জায়গায় রাখা ভালো যেখানে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো আসে।

পিজ্জা, পাস্তা, পাস্তা সস, মাংস এবং বিভিন্ন ইতালিয়ান বা ভূমধ্যসাগরীয় খাবারে অরিগানো ব্যবহার করা যায়।

৬. পার্সলি

পার্সলিতে অ্যাপিজেনিন, লুটিওলিন ও ভিটামিন সি রয়েছে। এসব উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে।

অন্য অনেক হার্বের তুলনায় পার্সলি ঘরের ভেতরেও চাষ করা যায়। মাঝারি মাত্রার সূর্যের আলো পেলেই এটি টবে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

স্যুপ, সালাদ, স্মুদি কিংবা বিভিন্ন খাবারের ওপর সাজিয়ে দেওয়ার জন্য তাজা পার্সলি ব্যবহার করা যায়।

৭. সেজ

সেজে রয়েছে প্রচুর পলিফেনল, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। এটি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

সেজ গাছের জন্য পর্যাপ্ত সূর্যের আলো প্রয়োজন। খুব বেশি পানি দেওয়ারও প্রয়োজন হয় না। বারান্দা বা রোদ আসে এমন জানালার পাশে টবে এটি রাখা যেতে পারে।

এর পাতায় হালকা মাটির মতো ঘ্রাণ ও সমৃদ্ধ স্বাদ রয়েছে। বিভিন্ন মাংস, স্যুপ ও মসলাদার খাবারে সেজ ব্যবহার করা যায়।

বাড়িতে হার্ব চাষের আগে যা মনে রাখবেন

বাংলাদেশের আবহাওয়া ও আর্দ্রতার কারণে সব ধরনের হার্ব একইভাবে বেড়ে উঠবে না। তাই গাছ কেনার আগে তার প্রয়োজনীয় আলো, পানি ও মাটির ধরন সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।

টবে চাষ করলে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখুন:

  • টবের নিচে পানি বের হওয়ার ছিদ্র রাখুন।
  • অতিরিক্ত পানি জমতে দেবেন না।
  • গাছ অনুযায়ী পর্যাপ্ত সূর্যের আলো নিশ্চিত করুন।
  • রান্নায় ব্যবহারের আগে পাতা ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
  • কীটনাশক ব্যবহার করলে খাবারে ব্যবহারের উপযোগী কি না, তা নিশ্চিত করুন।
  • নিয়মিত পাতা ছাঁটাই করলে অনেক হার্ব গাছ আরও ঘন হয়ে বেড়ে উঠতে পারে।

সবশেষে, এসব হার্বে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হতে পারে। তবে কোনো হার্বই রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে বৈচিত্র্যময় খাবারের অংশ হিসেবে এগুলো খাওয়াই ভালো।