ঘর থেকে মশা তাড়ানোর কার্যকরী ৫ উপায়
ছবিঃ সংগৃহীত।
বিকেল হতেই ঘরে মশার উপদ্রব শুরু হয়। রাতে ঘুমের সময় মশার ভনভন শব্দ যেমন বিরক্ত করে, তেমনি কামড়ের কারণে তৈরি হয় চুলকানি ও অস্বস্তি।সেইসঙ্গে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিতো রয়েছেই। তাই শুধু মশা মারার চেয়ে ঘরে মশা ঢোকা এবং বংশবিস্তার বন্ধ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ঘর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কয়েকটি সহজ অভ্যাস নিয়মিত মেনে চললে মশার উপদ্রব অনেকটাই কমানো সম্ভব। জেনে নিন ঘর থেকে মশা তাড়ানোর পাঁচটি সহজ ও কার্যকর উপায়।
১. জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলুন
মশা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো ঘরের আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া। ফুলের টবের নিচের প্লেট, বালতি, বোতল, পরিত্যক্ত পাত্র, ফ্রিজ বা এসির পানি জমার জায়গা এবং ছাদের বিভিন্ন অংশ নিয়মিত পরীক্ষা করুন। বিশেষ করে এডিস মশা অল্প পরিমাণ পরিষ্কার পানিতেও ডিম পাড়তে পারে। তাই শুধু নোংরা ড্রেন নয়, বাড়ির ভেতর ও আশপাশের ছোট ছোট পাত্রেও নজর দিতে হবে। কোনো পাত্রে পানি থাকলে তা ফেলে দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।
২. দরজা-জানালায় মশার জাল ব্যবহার করুন
মশা ঘরে ঢোকার পথ বন্ধ করা গেলে উপদ্রব অনেকটাই কমে যায়। জানালা ও ভেন্টিলেটরে মশা প্রতিরোধী জাল লাগাতে পারেন। জালে ছিদ্র তৈরি হয়েছে কি না, সেটিও নিয়মিত দেখে নিন।
দরজা দীর্ঘ সময় খোলা না রাখা এবং সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনীয়ভাবে জানালা-দরজা খোলা না রাখাও কাজে দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব ঘরে শিশু বা বয়স্ক মানুষ থাকেন, সেখানে মশা প্রবেশের পথ যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণ করা ভালো।
৩. মশারি ব্যবহার করুন
মশা থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো মশারি। বিশেষ করে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করলে মশার কামড় থেকে সরাসরি সুরক্ষা পাওয়া যায়। মশারি ব্যবহারের সময় চারপাশ ভালোভাবে গুঁজে দিন এবং কোথাও ছিদ্র আছে কি না পরীক্ষা করুন। শিশুদের ঘুমের সময়ও মশারি ব্যবহার করা যেতে পারে। মশারি নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও জরুরি।
৪. ঘর অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে করে রাখবেন না
মশা দিনের বেলায় অনেক সময় ঘরের অন্ধকার, শান্ত ও অপেক্ষাকৃত আর্দ্র জায়গায় আশ্রয় নেয়। পর্দার আড়াল, খাটের নিচে, আলমারির পেছন, বাথরুম বা জমে থাকা জিনিসপত্রের আশপাশে মশা লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। নিয়মিত পরিষ্কার করুন এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জমিয়ে রাখবেন না। বাথরুম ও রান্নাঘরের কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করুন।
৫. মশা প্রতিরোধী উপকরণ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
মশার কয়েল, ইলেকট্রিক ভ্যাপোরাইজার বা মশা প্রতিরোধী অন্যান্য পণ্য ব্যবহার করেও উপদ্রব কমানো যায়। তবে এগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে পণ্যের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। কয়েলের ধোঁয়া দীর্ঘ সময় সরাসরি শ্বাস নেওয়া এড়িয়ে চলুন এবং ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি বা শ্বাসকষ্টে সংবেদনশীল কেউ থাকলে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কোনো প্রতিরোধী স্প্রে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও লেবেলে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
তবে মনে রাখতে হবে, শুধু ঘরের ভেতর মশা মেরে ফেললেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। ঘরের আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকলে সেখানে মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই পানি জমতে না দেওয়া, ঘর পরিষ্কার রাখা, মশারি ব্যবহার এবং মশা প্রবেশের পথ বন্ধ করা এই কয়েকটি অভ্যাস একসঙ্গে মেনে চললেই মশার উপদ্রব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।