ফেনীতে বিপুল পরিমাণ বালু জব্দ
সংগৃহীত ছবি
ফেনীর সোনাগাজীতে নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বিপুল পরিমাণ বালু জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের পূর্বপাশের গুচ্ছগ্রাম সড়ক এলাকা থেকে প্রায় ৩ লাখ এবং সদর ইউনিয়নের চরলামচি মৌজার মুহুরী প্রজেক্ট বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে প্রায় ৫ লাখ, দুই স্থানে মোট প্রায় ৮ লাখ ঘনফুট অবৈধ বালু জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ও শুক্রবার সকালে পৃথক সময়ে একই অভিযানের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত এসব বালু জব্দ করে। পরে জব্দকৃত বালুর স্তূপে লাল পতাকা টানিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেগুলোর তদারকির দায়িত্ব স্থানীয় ভূমি তহশিলদারকে দেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। এ কারণে উত্তোলন করা বালুর স্তূপ জব্দের তালিকাভুক্ত করে প্রশাসন।
অভিযানে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারজান হোসেনের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া এবং সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাশেম।
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারজান হোসেন বলেন, অবৈধভাবে কিছু অসাধু ব্যক্তি নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে, এমন সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। পরে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালুর স্তূপ জব্দ করা হয়েছে। তবে সময়স্বল্পতার কারণে সঠিক পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জব্দকৃত বালুর তদারকির দায়িত্ব ইউনিয়ন ভূমি তহশিলদারকে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, পৃথক দুই স্থানে জব্দ করা বালুর পরিমাণ আনুমানিক ৮ থেকে ৯ লাখ ঘনফুট হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট পরিমাণ জানতে হলে বিস্তারিতভাবে পরিমাপ করতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দা শামসুদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে নদী থেকে উত্তোলন করে লাখ লাখ ঘনফুট বালু বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এখনো অন্তত দুই স্থানে প্রায় ১০ লাখ ঘনফুট বালু পড়ে আছে বলেও দাবি করেন তিনি।