সারাদিন চার্জ দিয়েও টিকছে না ব্যাটারি? যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি

সারাদিন চার্জ দিয়েও টিকছে না ব্যাটারি? যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি

ফাইল ছবি

স্মার্টফোন ছাড়া আমাদের এক মুহূর্তও চলে না। কথা বলা, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোলিং, অনলাইন লেনদেন কিংবা ছবি তোলার মতো দৈনন্দিন সব কাজেই আমরা স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রায়ই অনেকের অভিযোগ থাকে যে, সারাদিন চার্জ দিয়েও ফোনের ব্যাটারি টিকছে না। মূলত সবসময় ব্যাটারির ত্রুটি এর জন্য দায়ী নয়, বরং আমাদের কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসের কারণেই ফোনের চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যায়।

স্মার্টফোনের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করতে এবং চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার সমস্যা এড়াতে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলা প্রয়োজন—

১. অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্রাইটনেস

ফোনের স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা বা ব্রাইটনেস অতিরিক্ত বাড়িয়ে রাখা ব্যাটারি খরচের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ ভিডিও দেখা, গেম খেলা বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় উচ্চ ব্রাইটনেস থাকলে চার্জ খুব দ্রুত শেষ হয়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখা এবং সম্ভব হলে ‘অটো-ব্রাইটনেস’ ফিচার ব্যবহার করলে ব্যাটারি কিছুটা বেশি সময় টিকবে।

২. ব্যাকগ্রাউন্ডে অ্যাপ সচল রাখা

ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার পেছনে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা অ্যাপগুলোও বড় ভূমিকা রাখে। অনেক সময় আমরা অ্যাপ ব্যবহার করে বের হয়ে গেলেও সেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থেকে নোটিফিকেশন, লোকেশন বা ডেটা খরচ করতে থাকে। তাই ফোনের ব্যাটারি সেটিংস চেক করে কোন অ্যাপ বেশি চার্জ খাচ্ছে তা দেখে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিটি সীমিত করা উচিত। তবে জরুরি মেসেজিং বা সিস্টেম অ্যাপগুলোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো।

৩. অপ্রয়োজনীয় কানেক্টিভিটি ফিচার চালু রাখা

প্রয়োজন না থাকলেও অনেকেই জিপিএস (GPS), ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই, মোবাইল ডাটা ও হটস্পট সারাক্ষণ চালু রাখেন। এই ফিচারগুলো সবসময় সক্রিয় থাকলে ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বিশেষ করে দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকায় ফোন বারবার নেটওয়ার্ক খুঁজতে গিয়ে আরও বেশি ব্যাটারি খরচ করে। তাই প্রয়োজন ফুরোলে অপ্রয়োজনীয় কানেক্টিভিটি ফিচারগুলো বন্ধ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৪. ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়া ও নকল চার্জার ব্যবহার

অনেকেই ফোনের অতিরিক্ত গরম হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান। যেমন—চার্জে বসিয়ে দীর্ঘক্ষণ গেম খেলা, ভারী অ্যাপ ব্যবহার করা কিংবা সরাসরি রোদে ফোন ফেলে রাখা ব্যাটারির স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পাশাপাশি, কমদামী বা নিম্নমানের চার্জার ও কেবল ব্যবহার থেকেও বিরত থাকতে হবে। সবসময় ফোনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভালো মানের অরিজিনাল চার্জার ব্যবহার করা উচিত।

৫. সফটওয়্যার ও ব্যাটারি স্বাস্থ্য চেক করা

ফোনের চার্জ দ্রুত কমার সমস্যা যদি নিয়মিত দেখা দেয়, তবে ব্যাটারির হেলথ (Battery Health) এবং সফটওয়্যার আপডেট চেক করা প্রয়োজন। পুরোনো হয়ে যাওয়া ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। এছাড়া ফোনের সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট রাখা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করা এবং প্রয়োজনে ‘ব্যাটারি সেভিং মোড’ ব্যবহার করলে এই সমস্যা থেকে অনেকটাই রেহাই পাওয়া সম্ভব।