যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, আটক ৩

যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, আটক ৩

প্রতীকী ছবি

কুমিল্লায় ৫ লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে দুই সন্তানের জননী নূরজাহান বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

বুধবার (১৯ জুন) ভোরে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার শীমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত নূরজাহান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। এই ঘটনায় স্বামী খোরশেদ আলম (৪৫) ও তার পরিবারের আরও ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীর পিতা জয়নাল আবেদীন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ প্রধান আসামি নূরজাহানের ভাসুর আলী আশ্রাফ ও তার স্ত্রী লাইলী বেগম এবং নূরজাহানের আরেক জা শাহিনুর বেগমকে আটক করে আদলতে হাজির করেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা পুলিশের উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, তিন আসামিকে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অপর আসামিদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

খোরশেদ আলম ও নূরজাহান বেগমের ৯ শিশুকন্যা ও ১২ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

জানা গেছে, খোরশেদ আলম গত দেড় বছর যাবত বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিসহ নানান অপবাদে স্ত্রী নূরজাহান বেগমকে নির্যাতন করে আসছিল। ঈদের আগেও এরকম নির্যাতনের ঘটনা ঘটায় নূরজাহার তার বাবার বাড়ি চলে যায়। ঈদের পর তাকে আবারও ফোন করে শ্বশুর বাড়ি আনা হয়। পরে বুধবার মধ্যরাতে খোরশেদ আলম তার স্ত্রীর কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে নির্যাতন করা শুরু করে। যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে মারধর করে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন নূরজাহানকে। একপর্যায়ে গরম খুন্তি দিয়ে স্পর্শকাতর স্থান, গলায়, গালে এবং হাতেসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ পুড়িয়ে দেয়। সকালে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা নূরজাহানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং তার বাবার বাড়ির লোকজনকে ফোনে ঘটনাটি জানায়।

আহত নূরজাহান জানান, নির্যাতনের পর তারা রাতে আমাকে বাড়িতেই আটকে রাখে। পোড়া শরীর নিয়ে আমাকে সকালে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

নূরজাহানের বাবা জয়নাল আবেদীন জানান, শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। আমি এর আগে কয়েকবার তাদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করি।

এদিকে পুলিশ সুপার সদর সার্কেল অতিরিক্ত মো. কামরান হোসেন বলেন, শারীরিক নিযাতনের শিকার হাসপাতালে আহত নূরজাহানের বক্তব্য রেকর্ড করেছে পুলিশ। এঘটনায় তার স্বামীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ৩ জনকে পুলিশ আটক করেছে। বাকিদেরও আটকের অভিযান অব্যহত রয়েছে।