সোনারগাঁয়ে খামারিকে অপহরণ, মুক্তিপণে মিলল ছাড়া

সোনারগাঁয়ে খামারিকে অপহরণ, মুক্তিপণে মিলল ছাড়া

সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে জুয়েল রানা শুভ নামে এক গরুর খামারিকে অপহরণ করে নির্যাতন এবং পরিবারের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মুক্তি পাওয়ার পর এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে নেত্রকোনায় গরু কেনার কথা বলে জুয়েল রানা শুভকে কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ডে ডেকে নেওয়া হয়। পরে খায়রুলসহ কয়েকজন তাকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে কাঁচপুর এলাকার একটি মাছের খামারে আটকে রাখে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেখানে রাতভর তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুয়েল রানা শুভর অভিযোগ, তাকে আটকের পর পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নির্যাতন করে হাতের আঙুল ভেঙে দেওয়া হয় এবং সেই ছবি পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। পরে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ডেমরা-কোনাপাড়া এলাকায় আরও সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, ঢাকার ডিবি কার্যালয়ে কর্মরত ওসমান গণির মাধ্যমে ওই টাকা এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মুক্তি পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন জুয়েল রানা শুভ। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে শনিবার দুপুরে সোনারগাঁ থানায়ও অভিযোগ দেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কাঁচপুর এলাকায় ডিবি পুলিশে কর্মরত ওসমান গণির নেতৃত্বে একটি চক্র ব্যবসায়ী ও খামারিদের অপহরণ করে পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগে সন্ত্রাসী টাইগার মোমেনের ছোট ভাই মো. সুমনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, অপহরণের ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।