কুরাসাওয়ের ক্যাসিনো জগতের গোপন তথ্য ফাঁস

কুরাসাওয়ের ক্যাসিনো জগতের গোপন তথ্য ফাঁস

প্রতিকী ছবি

বিশ্বের অন্যতম বড় অফশোর অনলাইন ক্যাসিনো কেন্দ্র কুরাসাওয়ের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিপুল পরিমাণ গোপন নথি ফাঁস হয়েছে।‘ক্যাসিনো সিক্রেটস’ নামে প্রকাশিত এই ফাঁসে হাজার হাজার নথির মাধ্যমে অনলাইন জুয়া কোম্পানিগুলোর মালিকানা, অর্থের উৎস এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এসেছে।

ফাঁস হওয়া নথিগুলো কুরাসাও গেমিং অথরিটির (সিজিএ) সংরক্ষিত তথ্যভান্ডার থেকে নেওয়া হয়েছে। জার্মানির বার্লিনভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা গবেষক লিলিথ ভিটম্যান দাবি করেছেন, তিনি প্রায় নয় মাস ধরে সংস্থাটির সিস্টেমে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন।

সিজিএও তাদের অনলাইন পোর্টালে ‘অননুমোদিত প্রবেশের’ ঘটনা ঘটার কথা নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে, এ বিষয়ে ফরেনসিক তদন্ত চলছে।

তদন্তকারীদের মতে, ফাঁস হওয়া নথিতে প্রায় ৮০০ মালিকের তথ্য পাওয়া গেছে, যারা প্রায় ৬৫০টি লাইসেন্সধারী জুয়া কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত। এসব কোম্পানি সম্মিলিতভাবে হাজারো অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনা করে। নথির মধ্যে রয়েছে লাইসেন্স আবেদন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল্যায়ন, পাসপোর্ট, করসংক্রান্ত নথি এবং আর্থিক তথ্য।

এই তথ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- কিছু বড় অনলাইন ক্যাসিনোর প্রকৃত মালিকানা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের মধ্যেই প্রশ্ন ছিল। উদাহরণ হিসেবে ক্রিপ্টোভিত্তিক জনপ্রিয় অনলাইন ক্যাসিনো স্টেক-এর কুরাসাওভিত্তিক কোম্পানি মিডিয়াম রেয়ার এনভির মালিক হিসেবে সার্বিয়ান নাগরিক ম্লাদেন ভুকোভিচের নাম নথিতে রয়েছে। তবে সিজিএর কর্মকর্তারা কোম্পানিটির প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

নথিতে স্টেকের প্রতিষ্ঠাতা এড ক্র্যাভেন ও বিজান তেহরানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিপুল অঙ্কের অর্থ স্থানান্তরের তথ্যও উঠে এসেছে।

একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে ১এক্সবেট নিয়েও। কুরাসাওভিত্তিক কোম্পানিটির মালিক হিসেবে ইউক্রেনীয় নাগরিক ইহোর হ্নিয়েদাশের নাম থাকলেও, কোম্পানিটির সঙ্গে রুশ ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক নিয়ে নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তারা অতিরিক্ত তথ্য চেয়েছিলেন।

তদন্ত অনুযায়ী, সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর পুরোপুরি না পেলেও ২০২৪ সালে কোম্পানিটিকে লাইসেন্স দেওয়া হয়।

কুরাসাও দীর্ঘদিন ধরেই অফশোর অনলাইন জুয়ার বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ছোট ক্যারিবীয় দ্বীপটিতে ৮ হাজারের বেশি ক্যাসিনো পরিচালিত হয় বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর তুলনায় দ্বীপটির জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার।

ফাঁসের নথি প্রকাশের পর কুরাসাওয়ের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে লাইসেন্স আবেদনকারীদের মালিকানা নিয়ে নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তারা সন্দেহ প্রকাশ করলেও পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ার পরও লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, প্রকৃত মালিকানা গোপন রাখার সুযোগ অর্থ পাচার ও অপরাধী গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তবে ফাঁস হওয়া নথিতে কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তির নাম থাকা মানেই তারা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। প্রকাশিত আর্কাইভ সম্পর্কিত সতর্কবার্তাতেও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য নথিতে থাকা নিজে থেকেই অবৈধ বা অনিয়মের প্রমাণ নয়। কয়েকটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও তদন্তের বিভিন্ন অভিযোগ ও ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছে।

এদিকে কুরাসাও গেমিং অথরিটি জানিয়েছে, সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা তারা শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে এই ঘটনায় ঠিক কত পরিমাণ তথ্য হাতছাড়া হয়েছে এবং ফাঁসের পূর্ণ প্রভাব কী- তা এখনো তদন্তাধীন।