জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রেবেকা

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রেবেকা

রেবেকা গ্রিনস্প্যান

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান। নিরাপত্তা পরিষদের চতুর্থ দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটেও সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন তিনি। তবে চূড়ান্তভাবে মহাসচিব হতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের পাশাপাশি পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কোনো দেশের ভেটো এড়াতে হবে। ফলে এখনো নিশ্চিত নয়, শেষ পর্যন্ত কে জাতিসংঘের শীর্ষ পদে বসবেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অনুষ্ঠিত চতুর্থ দফার গোপন ভোটে গ্রিনস্প্যান ১০টি ‘সমর্থন’ ভোট পেয়েছেন। তার বিপক্ষে ভোট পড়েছে তিনটি এবং দুজন কোনো মতামত দেননি। এর মধ্য দিয়ে চার দফার মধ্যে তৃতীয়বারের মতো অনানুষ্ঠানিক ভোটে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেলেন তিনি।

গ্রিনস্প্যান বর্তমানে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা ইউএনটিএডির মহাসচিব। তিনি কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টও। জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় তার প্রার্থিতা জাতিসংঘের ওয়েবসাইটেও তালিকাভুক্ত রয়েছে।

চতুর্থ দফার ভোটে গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট এবং আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি ৮টি করে ‘সমর্থন’ ভোট পেয়েছেন। গ্রোসি বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক।

বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। তাকে স্থলাভিষিক্ত হতে বর্তমানে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে চারজন নারী ও তিনজন পুরুষ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থীদের মধ্যে রেবেকা গ্রিনস্প্যান, রাফায়েল গ্রোসি, ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট, মাকি সাল, মারিয়া ফের্নান্দা এস্পিনোসা এবং ওলারাহ ওতুনুসহ অন্যরা রয়েছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ সনদের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদ নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে মহাসচিব নিয়োগ করে। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে নয়টি ভোট পেলেও কোনো প্রার্থীকে পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার—ভেটো এড়াতে হয়।

বর্তমান অনানুষ্ঠানিক ‘স্ট্র পোল’ বা মতামত যাচাইয়ের ভোটে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা প্রতিটি প্রার্থীর বিষয়ে তিন ধরনের মত দেন—‘সমর্থন’, ‘বিরোধিতা’ অথবা ‘কোনো মতামত নেই’। এই ভোটগুলো আনুষ্ঠানিক নির্বাচন নয়; প্রার্থীদের প্রতি পরিষদের সদস্যদের সমর্থনের মাত্রা বোঝার জন্য এগুলো নেওয়া হয়।   

তবে এবারের চতুর্থ দফার ভোটে স্থায়ী পাঁচ সদস্যের ব্যালটে আলাদা কোনো চিহ্ন রাখা হয়নি। ফলে গ্রিনস্প্যানের বিপক্ষে দেওয়া তিনটি ভোটের কোনটি স্থায়ী সদস্যের কাছ থেকে এসেছে কি না, তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি। এ কারণে তার এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব বাছাইয়ে আরও কয়েক দফা অনানুষ্ঠানিক ভোট হতে পারে। এরপর নিরাপত্তা পরিষদ কোনো একজন প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সুপারিশ করলে বিষয়টি সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের জন্য যাবে।

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, জাতিসংঘের মহাসচিবের পদটি বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্যে ঘুরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়। এবারের প্রার্থীদের মধ্যে লাতিন আমেরিকার একাধিক প্রার্থী থাকায় আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আলোচনায় রয়েছে।