স্টারশিপের ইঞ্জিনে ত্রুটি, চাঁদে নাসার মিশনে বাড়ছে শঙ্কা
ছবি : রয়টার্স
স্পেসএক্সের স্টারশিপের সর্বশেষ পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে একটি ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নাসার চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই ইঞ্জিন ব্যবস্থা ব্যবহার করে চাঁদে নভোচারী পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে স্পেসএক্সের।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর টেক্সাস থেকে স্টারশিপের ১৪তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন হয়। পরীক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য পূরণ হলেও উড্ডয়নের কয়েক ঘণ্টা পর এর প্রপালশন ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয়।
নিচের ধাপের বুস্টার থেকে স্টারশিপ আলাদা হওয়ার পর এর তিনটি প্রধান র্যাপ্টর ইঞ্জিনের একটিতে অস্বাভাবিকতা দেখা যায় এবং সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র স্টারশিপকে কক্ষপথে পাঠানোর কাজ চালিয়ে যায়।
এই মিশনে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটও বহন করা হয়।
তবে ইঞ্জিনের সমস্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির কারণে। এই কর্মসূচির আওতায় চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারী পাঠাতে স্পেসএক্সের স্টারশিপকে লুনার ল্যান্ডার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
মহাকাশ প্রকৌশলী ডিন স্লাডেন রয়টার্সকে বলেন, সমস্যাটি যদি কোনো একটি যন্ত্রাংশের বিচ্ছিন্ন ত্রুটি হয়, তাহলে এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে। কিন্তু যদি বড় ধরনের নকশাগত সমস্যা ধরা পড়ে এবং পুরো বহরের ইঞ্জিনে পরিবর্তন আনতে হয়, তাহলে স্টারশিপের পরবর্তী পরীক্ষাগুলো পিছিয়ে যেতে পারে।
আর সেই বিলম্ব নাসার চাঁদে মানুষ পাঠানোর সময়সূচিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে নভোচারীদের চাঁদের পৃষ্ঠে ফেরানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে এর আগে আর্টেমিস-৩ মিশনের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে কক্ষপথে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সেখানে মহাকাশযানের মিলন ও ডকিংসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে।
চাঁদে অবতরণের জন্য শুধু স্পেসএক্সের স্টারশিপই নয়, জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের ‘ব্লু মুন’ ল্যান্ডারও প্রতিযোগিতায় রয়েছে। নাসা জানিয়েছে, যে ল্যান্ডার আগে প্রস্তুত হবে, সেটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
স্টারশিপের র্যাপ্টর ইঞ্জিন নিয়ে এর আগেও সমস্যা দেখা গেছে। মে মাসে স্টারশিপের ১২তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে একটি ইঞ্জিন পরিকল্পনা অনুযায়ী চালু হয়নি। তবে জুলাইয়ে ১৩তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে সব ইঞ্জিন সফলভাবে কাজ করেছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্বশেষ ত্রুটির কারণ ও তা ঠিক করতে কত সময় লাগবে, সেটিই এখন স্টারশিপের উন্নয়ন এবং নাসার চাঁদে মানুষ পাঠানোর সময়সূচির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।