বগুড়ায় লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের বাজার

বগুড়ায় লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের বাজার

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার বাজারে কমছে না সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। ফলে এখনও স্বস্তি ফেরেনি।  শীতের সবজির মৌসুম ঘনিয়ে এলেও বাজারে এর প্রভাব এখনও তেমন একটা পড়েনি। যে কারণে বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে চাপে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। এদিকে স্থানভেদে ডিমের দাম বেড়েছে। মুরগি আগের দামেই বিক্রি হলেও মাছের দামও বেড়েছে। 

জানা যায়, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়েছে। প্রায় সব ধরণের সবজিই কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মাছ ও ডিমের দামও চড়া। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। সব মিলে সাধারণ মানুষের জীবনে বাড়ছে বাড়তি চাপ, উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বগুড়ার রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, কলোনী ও খান্দারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বাড়তি। তবে সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম। প্রতি কেজি শিমের দাম ২০০ টাকা। বাজারে বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১২০টাকা, পটল ৬০টাকা, শসা ৬০টাকা, গাজর ১২০টাকা, টমেটো ১২০টাকা, করলা ৮০টাকা, ঢেঁড়স ৬০টাকা, তরী ৮০টাকা, ফুলকপি ১৬০টাকা, বাধাকপি ৮০টাকা, বইকচু ৬০টাকা। এছাড়া বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকা, দেশি আদা ১৬০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা এবং চায়না রসুন ১৮০ দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। কাঁচা মরিচ ১২০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আলু প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। 

মুরগির বাজারে দামে তেমন পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ২৮০, লেয়ার ৩৬০টাকা  এবং দেশি মুরগি ৫৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৬০টাকা এবং খাসির মাংস ১১শ’ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা যায়। এছাড়া ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়ে প্রতি হালি ৫০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি ও হাঁসের ডিম ৭০ থেকে ৮০টাকা হালি বিক্রি করতে দেখা যায়।

এদিকে মাছের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য মাছের দামও বেশ চড়া। রুই মাছ আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৪৫০টাকা। এছাড়া ছোট দেশি মাছের দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

বগুড়া রাজাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী মোঃ সহিদুল ইসলাম বলেন, শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লে বাজারে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে বর্তমানে চাহিদা ও সরবরাহ, পরিবহন খরচ এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রতিদিনই কিছু পণ্যের দামে পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতাদের স্বস্তি এখনও পুরোপুরি ফেরেনি।

বাজার করতে আসা আব্দুস সালাম বলেন, প্রতিদিনই কোনও না কোনও পণ্যের দাম নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে। পরিবারের প্রয়োজনীয় সব পণ্য কিনতে গেলে বাজেটের চেয়ে বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। শীতের সবজি বাজারে এলে দাম কিছুটা কমবে এটাই আশা করছি।