ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, থাকছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৫৪তম সমাবর্তন আগামী ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এতে চ্যান্সেলর হিসেবে সভাপতিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতির বিষয়েও সম্মতি মিলেছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) বঙ্গভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাতে সমাবর্তনে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি জানানো হয়। অন্যদিকে, গেস্ট অব অনার হিসেবে সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার ব্যাপারে ইতোমধ্যে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। পরে তিনি ২০২৭ সালের ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ৫৪তম সমাবর্তনে চ্যান্সেলর হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।
এছাড়াও, শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয় গুরুত্ব পায়। একইসঙ্গে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি।
বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন উপাচার্য। শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ আরও উন্নত করতে সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ও তুলে ধরা হয়।
বিশেষ করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক বা ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক জোরদারে নেওয়া উদ্যোগের কথা রাষ্ট্রপতিকে জানানো হয়। গবেষণার ফলাফল বাস্তব ক্ষেত্রে কাজে লাগানো এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।
আলোচনায় বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন উপাচার্য।
সাক্ষাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ নয়; দেশের রাজনীতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও কেন্দ্রবিন্দু।”
শিক্ষা ও গবেষণার মান আরো বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ও জাতীয় ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বঙ্গভবনের বৈঠকে এসব কার্যক্রমের অগ্রগতিও রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরা হয়।
ঢাবি উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বৈঠকে নতুন কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, অর্থ বরাদ্দ বা নির্দিষ্ট প্রকল্প অনুমোদনের ঘোষণা আসেনি। তবে, ৫৪তম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণের সম্মতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার বিষয়ে তার নির্দেশনাই বৈঠকের প্রধান বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে।