জাপানের হোটেল থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার
ছবিঃ সংগৃহীত।
জাপানের ওকিনাওয়া এলাকায় একটি হোটেল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যার সন্দেহে এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিবিসি জানায়, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ঘটনাটিকে ‘নৃশংস ও জঘন্য’ ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ ঘটনায় মার্কিন সেনাদের ওপর আরো কঠোর শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, নিহত নারীর নাম ইয়াগি আন্না। তার বয়স ৩৯ বছর।
সন্দেহভাজন সেনার নাম ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ড। তার বয়স ২০ বছর। তিনি মার্কিন মেরিন কোরের ফুতেনমা বিমানঘাঁটিতে কর্মরত।
মার্কিন মেরিন কোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, একজন মেরিন সেনার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে তারা জাপানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।
নিহত নারীর পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানিয়েছে তারা।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানান, শনিবার ভোরে ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহা শহরের একটি হোটেল থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওকিনাওয়া জাপানের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ।
কোইজুমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি জানান, মার্কিন সেনাদের জড়িত কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা স্থানীয় মানুষের মধ্যে বড় উদ্বেগ তৈরি করে।
টোকিওতে থাকা মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা জাপান সরকার ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে পুরোপুরি সহযোগিতা করছে। এ ঘটনায় আলোচনার জন্য জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার মার্কিন রাষ্ট্রদূত জর্জ গ্লাসকে তলব করে।
ওকিনাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সেখানে হাজার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করেন। ওকিনাওয়ার গভর্নর জেন্তা কোজা বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রদেশটি বারবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তার মতে, এবারের ঘটনাও মার্কিন সেনাদের মধ্যে শৃঙ্খলার ঘাটতির বিষয়টি সামনে এনেছে।
তিনি বলেন, বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটায় সেনাদের শৃঙ্খলা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ওকিনাওয়ায় মার্কিন সেনাদের জড়িত থাকার এটি সর্বশেষ ঘটনা। জাপানে দায়িত্ব পালন করা প্রায় ৫৪ হাজার মার্কিন সেনার অর্ধেকের বেশি ওকিনাওয়ায় অবস্থান করেন।
এর আগে মার্কিন সেনাদের জড়িত বিভিন্ন ঘটনায় ওকিনাওয়ায় ক্ষোভ ও বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালের একটি ঘটনা বড় বিক্ষোভের জন্ম দেয়। সে সময় ১২ বছর বয়সী এক মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন।
২০২৪ সালেও ওকিনাওয়ায় মার্কিন সেনাদের জড়িত চারটি যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য ব্রেনন ওয়াশিংটনের ঘটনাও ছিল। অপ্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়েকে ধর্ষণ ও অপহরণের দায়ে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।