গ্রিনল্যান্ড নিয়ে এআই ছবি পোস্ট করে হাসির খোরাক ট্রাম্প
ছবিঃ সংগৃহীত।
গ্রিনল্যান্ডে তাকে স্বাগত জানাচ্ছে একদল পেঙ্গুইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্মিত এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।অথচ আর্কটিকের বরফ, হিমবাহ ও মেরু ভালুকের আবাসস্থল গ্রিনল্যান্ডে পেঙ্গুইনের কোনো অস্তিত্বই নেই।
রবিবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে যে ২০টিরও বেশি পোস্ট করেছেন, তার মধ্যেই এই ছবিটি শেয়ার করা হয়। ছবিটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
ছবিটিতে দেখা যায়, বরফাবৃত পর্বতের সামনে ট্রাম্পের মতো দেখতে একজন দাঁড়িয়ে আছেন এবং তার সামনে লাল, সাদা ও নীল রঙের সোয়েটার পরা একঝাঁক পেঙ্গুইন যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা হাতে জড়ো হয়েছে। এই দৃশ্যের ওপরে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে "গ্রিনল্যান্ড"।
এই কাল্পনিক ছবির মূল সমস্যা হলো—গ্রিনল্যান্ড কিংবা সামগ্রিকভাবে সুমেরু (আর্কটিক) অঞ্চলে কোনো স্থানীয় বা দেশীয় প্রজাতির পেঙ্গুইন নেই। উড়তে অক্ষম এই সামুদ্রিক পাখিরা প্রায় পুরোপুরিভাবেই অ্যান্টার্কটিকা, দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ অংশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডসহ দক্ষিণ গোলার্ধে বসবাস করে।
প্রাকৃতিকভাবে বিষুবরেখার উত্তরে পাওয়া যাওয়া একমাত্র বুনো প্রজাতি হলো 'গ্যালাপাগোস পেঙ্গুইন'—যা গ্রিনল্যান্ড থেকে প্রায় ৪ হাজার ৯০০ মাইল দূরে অবস্থিত।
প্রেসিডেন্টের এই পেঙ্গুইন বিষয়ক পোস্টটি ছিল গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে তার সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তাগুলোরই অংশ। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপ অঞ্চলটিকে দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন ট্রাম্প।
এর আগে রোববারেই তিনি নিজের একটি এআই-জেনারেট করা ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তাকে দ্বীপটির পর্বতশ্রেণীর ওপর থেকে উঁকি দিতে দেখা যায়।
ছবিটির ক্যাপশন ছিল, "হ্যালো, গ্রিনল্যান্ড!"
এছাড়া গত ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি আরেকটি ছবি শেয়ার করেছিলেন, যেখানে গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে রাখা একটি গ্লোবের ওপর তার মুখমণ্ডল ভেসে উঠতে দেখা যায়। সেই ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল: "হিজ হেমিস্ফিয়ার" (তার গোলার্ধ)।
যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিকে স্বাক্ষরিত একটি নিরাপত্তা চুক্তির পরেই এসব সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের ঢল নামে। এই চুক্তি ডেনমার্ক রাজ্যের অধীনে গ্রিনল্যান্ডের বর্তমান মর্যাদা বজায় রেখেই দ্বীপটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পথ প্রসারিত করেছে।
ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, 'চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অপরাপর সকল প্রয়োজনের ওপর স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রদান করে, যা আমেরিকার উদ্বেগের প্রায় সকল দিক পুরোপুরি নিরসন করেছে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, 'এই চুক্তিটি সুমেরু (আর্কটিক) ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে আমাদের যৌথ নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করে, একই সঙ্গে এটি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকার করে। '
ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে আনার আগ্রহ বারবার প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প। এমনকি এটি বাস্তবায়নে কখনো কখনো সামরিক শক্তি প্রয়োগের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি, যা গ্রিনল্যান্ড ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছে।
বিভিন্ন জনমত জরিপেও দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পক্ষে মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন যেমন কম, তেমনি গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের সায় নেই বললেই চলে। প্রায় ৫৬ হাজার মানুষের বসবাসের এই বিশাল দ্বীপটি বর্তমানে ডেনমার্ক রাজ্যের স্বায়ত্তশাসিত অংশ।