নিয়মিত মাছ খাওয়ার উপকারিতা

নিয়মিত মাছ খাওয়ার উপকারিতা

ছবিঃ সংগৃহীত।

নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশে মাছ শুধু খাবার নয়, বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ কথাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে মাছের প্রতি এ দেশের মানুষের ভালোবাসা।

স্বাদের পাশাপাশি মাছ শরীরের প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদানেরও উৎস। এতে রয়েছে প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে মাছ খেলে শরীরের বিভিন্ন উপকার হতে পারে।

মাছের ধরন অনুযায়ী পুষ্টিগুণে পার্থক্য থাকে।

বিশেষ করে তৈলাক্ত মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস। হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম—শরীরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাছের পুষ্টি ভূমিকা রাখে। মাছ খাওয়ার আটটি স্বাস্থ্য উপকারিতা জেনে নেওয়া যাক।

১. হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য করে

ইলিশ, সার্ডিন ও স্যামনের মতো তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে।

এটি রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে মাছ খাওয়া হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

২. মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে

মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, বিশেষ করে ডিএইচএ, মস্তিষ্কের গঠন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণ স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাভাবনার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে সহায়তা করে।

৩. পেশি গঠন ও কোষ মেরামতে সাহায্য করে

মাছ উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস।

শরীরের পেশি গঠন, কোষ মেরামত এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রোটিন প্রয়োজন। এ কারণে প্রতিদিনের সুষম খাদ্যতালিকায় মাছ রাখা উপকারী।

৪. চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে

মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চোখের রেটিনার স্বাভাবিক গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিছু মাছ ভিটামিন এ-ও সরবরাহ করে, যা স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয়।

৫. হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে ভূমিকা রাখে

কাঁটাসহ খাওয়া যায় এমন ছোট মাছ ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। আবার কিছু তৈলাক্ত মাছে ভিটামিন ডি থাকে, যা শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। এসব পুষ্টি উপাদান হাড় ও দাঁতের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

৬. রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে সহায়তা করে

মাছের প্রোটিন, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম ও বিভিন্ন ভিটামিন শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। মাছের প্রজাতি অনুযায়ী এসব পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

৭. ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণে সাহায্য করে

মাছ থেকে প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন বি১২, আয়োডিন ও সেলেনিয়ামের মতো পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। ভিটামিন বি১২ স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৮. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে

মাছ ভাজা বা অতিরিক্ত তেল-মসলা দিয়ে রান্না না করে ঝোল, ভাপানো বা গ্রিল করে খেলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা সহজ হয়। মাছের সঙ্গে শাকসবজি, ডাল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করা যায়।

কোন মাছ খাওয়া ভালো?

বাংলাদেশে রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, পাঙাশ, ইলিশসহ নানা ধরনের মাছ পাওয়া যায়। এসব মাছের পুষ্টিগুণ এক রকম নয়। তাই সম্ভব হলে বিভিন্ন ধরনের মাছ খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো। মাছ ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে কম পারদযুক্ত মাছ বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

মাছ পুষ্টিকর খাবার হলেও এটি কোনো রোগের একক চিকিৎসা নয়। সুস্থ থাকতে মাছের পাশাপাশি সুষম খাবার, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম ও পর্যাপ্ত ঘুমের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।