কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে কি কোমরে ব্যথা হয়, কী বলছেন চিকিৎসক
ফাইল ছবি
কোমরব্যথার পেছনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে কাজ করা কিংবা মেরুদণ্ডের সমস্যা দায়ী হতে পারে। তবে কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণেও কি কোমরে ব্যথা হতে পারে? চিকিৎসকদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য পরোক্ষভাবে কোমরের নিচের অংশে ব্যথার কারণ হতে পারে।
তবে একই সময়ে দুটি সমস্যা দেখা দিলেই একটির জন্য অন্যটিকে দায়ী করা ঠিক নয়।
ভারতের চেন্নাইয়ের সিমস হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট চিকিৎসক সন্থোষ রাজেন্দ্রন জানিয়েছেন, কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া, দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা এবং অন্ত্রে মল জমে থাকার মতো পরিস্থিতি কোমরব্যথার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্যে কেন কোমরে ব্যথা হতে পারে?
চিকিৎসকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোষ্ঠকাঠিন্য ও কোমরব্যথার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে না থাকলেও কয়েকটি কারণে একটির সঙ্গে অন্যটির যোগসূত্র তৈরি হতে পারে।
১. অন্ত্রে মল জমে থাকা: দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে বৃহদন্ত্রের নিচের অংশে মল জমে অন্ত্র প্রসারিত হতে পারে। এতে পেটের অস্বস্তির পাশাপাশি কোমরের নিচের অংশেও ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কখনো এই ব্যথা সায়াটিকার মতো মনে হতে পারে। তবে মল জমে থাকার সমস্যা দূর হলেই সব ক্ষেত্রে কোমরব্যথা সেরে যাবে, এমন নয়।
২. মত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া: কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মলত্যাগ করতে বারবার জোর দিতে হয়। এতে পেটের ভেতরের চাপ বাড়ে এবং কোমরের পেশি ও মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। আগে থেকেই মেরুদণ্ডের ডিস্কের সমস্যা থাকলে এই চাপ ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।
৩. দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকা: টয়লেটে দীর্ঘ সময় ঝুঁকে বসে থাকলে কোমরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে এমন অবস্থায় বেশি সময় কাটাতে হলে কোমরব্যথা আরও বাড়তে পারে।
৪. পেলভিক ফ্লোরের পেশির সমস্যা: পেলভিক ফ্লোর হলো শ্রোণি অঞ্চলের এমন কিছু পেশি, যা মলত্যাগের প্রক্রিয়া এবং কোমর ও শ্রোণির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এসব পেশির সমন্বয়ে সমস্যা হলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে এবং একই সঙ্গে কোমরব্যথাও হতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলেই কি কোমরব্যথার কারণ সেটি?
চিকিৎসকের মতে, কোষ্ঠকাঠিন্য ও কোমরব্যথা একসঙ্গে দেখা দিলেও একটি যে অন্যটির কারণ, তা নিশ্চিত নয়। কখনো কোমর বা মেরুদণ্ডের সমস্যার কারণে শারীরিক চলাফেরা ও মলত্যাগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। আবার দুটি সমস্যার পেছনে একই শারীরিক কারণও থাকতে পারে।
থাইরয়েডের কার্যকারিতা কমে যাওয়া, ডায়াবেটিস, পারকিনসনস রোগ, মেরুদণ্ডের সমস্যা কিংবা গর্ভাবস্থার মতো পরিস্থিতিতে কোষ্ঠকাঠিন্য ও কোমরব্যথা একসঙ্গে দেখা দিতে পারে। তাই শুধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করলেই কোমরব্যথা সেরে যাবে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
কোন লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি?
কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে কোমরব্যথা হলে কিছু লক্ষণকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে নতুন করে মলত্যাগের সমস্যা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি নিচের লক্ষণগুলো থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
-
নিতম্ব, দুই উরুর মাঝের অংশ বা যৌনাঙ্গের আশপাশে অবশভাব অনুভব করা।
-
প্রস্রাব করতে অসুবিধা হওয়া বা মূত্রথলি পুরোপুরি খালি করতে না পারা।
-
দুই পায়ে ব্যথা, দুর্বলতা বা অবশভাব দেখা দেওয়া।
এ ধরনের লক্ষণ ‘কডা ইকুইনা সিনড্রোম’ নামের একটি গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এতে মেরুদণ্ডের নিচের অংশের স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। তাই এসব লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে জরুরি বিভাগে যেতে হবে।
কোষ্ঠকাঠিন্য কিছু ক্ষেত্রে কোমরব্যথার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে ব্যথার প্রকৃত কারণ জানতে লক্ষণগুলোর ধরন, স্থায়িত্ব এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, বাড়তে থাকলে বা সতর্কসংকেত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।