রাতে ঘি মাখলেই কি ত্বক উজ্জ্বল ও ঘুম গভীর হবে?

রাতে ঘি মাখলেই কি ত্বক উজ্জ্বল ও ঘুম গভীর হবে?

ছবি সংগৃহীত।

স্ট্রেসের কারণে রাতে ঠিকমতো ঘুম হচ্ছে না? অল্প শব্দেই ভেঙে যাচ্ছে ঘুম? আবার ত্বকও চান সারা বছর উজ্জ্বল ও চকচকে? বলিউডের দুই বোন কারিনা কাপুরের সৌন্দর্যচর্চায় আলোচনায় এসেছে রান্নাঘরের পরিচিত একটি উপাদান- ঘি।

তবে ঘি ব্যবহার করার আগে জেনে নেওয়া দরকার, ত্বক ও ঘুমের যত্নে এটি কীভাবে কাজে লাগতে পারে এবং কারা ব্যবহারে সতর্ক থাকবেন। ঘি রান্নাঘরের পরিচিত উপাদান। খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি ত্বকের যত্নেও অনেকে এটি ব্যবহার করেন।

ঘি দিয়ে পায়ের মালিশে কি ঘুম ভালো হয়?

সারাদিনের কাজের চাপ, মানসিক উদ্বেগ ও স্ট্রেসের কারণে অনেকেরই রাতে ঘুম আসতে দেরি হয়। কারো আবার ঘুম এলেও অল্প শব্দে ভেঙে যায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ঘুমানোর আগে পায়ের পাতায় হালকা মালিশ আরাম দিতে পারে।

পায়ের পাতায় ঘি মেখে আলতো হাতে মালিশ করলে ত্বক কোমল থাকে। একই সঙ্গে মালিশের সময় শরীর ও মন কিছুটা শান্ত হতে পারে। ঘুমের আগে নিজের যত্ন নেওয়ার এই অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে এবং ঘুমের প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করতে পারে।

তবে ঘি নিজেই গভীর ঘুম আনে, এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মূলত মালিশের ফলে তৈরি হওয়া আরাম এবং ঘুমের আগে শান্ত পরিবেশে সময় কাটানো ঘুমের জন্য সহায়ক হতে পারে। নিয়মিত ঘুমের সমস্যা হলে শুধু ঘি মালিশের ওপর নির্ভর না করে সমস্যার কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।

ত্বকের যত্নে ঘি কতটা কার্যকর?

শুষ্ক ত্বকের যত্নে ঘি ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। এতে থাকা চর্বিজাতীয় উপাদান ত্বকের উপরিভাগে একটি আবরণ তৈরি করে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে ত্বক সাময়িকভাবে নরম ও মসৃণ দেখাতে পারে।

বিশেষ করে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে অনেকে ঘরোয়া ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ঘি ব্যবহার করেন। তবে ঘি ব্যবহার করলেই ত্বকের দাগছোপ দূর হবে কিংবা ত্বক উজ্জ্বল হয়। তবে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার করা, উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং দিনের বেলায় সানস্ক্রিন লাগানো বেশি কার্যকর অভ্যাস।

তৈলাক্ত ত্বকে ঘি ব্যবহারে সতর্কতা

ঘি সবার ত্বকের জন্য সমান উপযোগী নয়। বিশেষ করে যাদের ত্বক তৈলাক্ত, ব্রণপ্রবণ কিংবা সহজে রোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের মুখে ঘি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।

ঘি বেশ চর্বিযুক্ত উপাদান। এটি কিছু মানুষের ত্বকে অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব তৈরি করতে পারে এবং ব্রণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে মুখে ঘি মাখার বদলে ত্বকের ধরন অনুযায়ী তৈরি নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া ভালো। যাদের ত্বক শুষ্ক, তারাও মুখে ঘি ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নিতে পারেন। চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা ব্রণ দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।

খাবারে ঘি খাওয়ার ক্ষেত্রেও চাই পরিমিতি

ঘি শুধু ত্বকে মাখার উপাদান নয়, রান্নাতেও বহুল ব্যবহৃত। তবে ঘিতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকায় অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। পরিমাণের দিকে খেয়াল রেখে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি খাওয়া যেতে পারে।

ঘি শুষ্ক ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে কিছুটা সাহায্য করতে পারে। পায়ের পাতায় মালিশও ঘুমের আগে আরাম পাওয়ার একটি উপায় হতে পারে। ত্বকের ধরন বুঝে ব্যবহার করা এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলাই সুস্থতা ও সৌন্দর্য ধরে রাখার ভালো উপায়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি