ষষ্ঠ শ্রেণির বইয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি, ব্যাখ্যায় যা বলল এনসিটিবি
ছবি: সংগৃহীত
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রেখেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। মাঠপর্যায়ে পাঠানো বইগুলোও ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রতীকটি ব্যবহারের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই বলে দাবি করেছেন বইটির বিষয় বিশেষজ্ঞ ও এনসিটিবির কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল যোবায়ের।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে দেওয়া ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বইয়েও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। পরের বছর একজন শিক্ষক শিশুদের প্রজ্ঞার ধারণা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা জানিয়ে প্রতীক পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। এরপর ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়। তবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার আগের প্রতীক ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
প্রতীকটি কীভাবে বইয়ে যুক্ত হলো, সে বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল যোবায়ের বলেন, ‘উইসডোম আসলে শিক্ষা। ছবি আঁকেন আমাদের আর্টিস্টরা। হায়ার করা আর্টিস্ট। তাদের টিম এসেছিল। তারা প্রজ্ঞা দেখে সেখানে দাঁড়িপাল্লা এঁকেছে।’
তিনি বলেন, ‘আপনি নলেজ পিরামিড গুগলে সার্চ দিলে দেখবেন, উদাহরণে প্রজ্ঞার আইকন দাঁড়িপাল্লা দেওয়া আছে। যারা ছবি এঁকেছে তারা হয়তো ওটা দেখেই এঁকেছে। আমাকে পাঠিয়েছে, আমি ইনসার্ট করেছি।’
দাঁড়িপাল্লা ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কোনো বিষয় বিবেচনায় ছিল না দাবি করে এই কর্মকর্তা বলেন, এটা আইসিটির বই, এখানে পলিটিক্যাল ইস্যু মাথায় কাজ করবে না। এই বইয়ে পলিটিক্যাল লেন্স কাজ করে না।
প্রজ্ঞার অর্থ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, উইসডোম মানে হলো জাজ করা। ভালো খারাপ বিচার করা। অর্থাৎ ভালো-মন্দ জাস্টিফাই করার যে ক্ষমতা, এটাই প্রজ্ঞা। ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতার সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার প্রতীকী সম্পর্ক রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।
এদিকে, দাঁড়িপাল্লার ছবি নিয়ে বিতর্কের পর বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত থেকে সংশ্লিষ্ট বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রেখেছে এনসিটিবি। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে পাঠানো বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীকটি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো ফেরত এনে সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন করা হবে। এরপর আবার শিক্ষার্থীদের কাছে বই সরবরাহ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ভুল তথ্য না পায়, সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।’
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, এই চারটি স্তর দেখানো হয়েছে। প্রতিটি স্তরের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে আলাদা প্রতীক।
উপাত্ত বোঝাতে বৃত্তাকার চিত্র, তথ্যের জন্য পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো প্রতীক এবং জ্ঞানের জন্য মানুষের মস্তিষ্কের ছবি রাখা হয়েছে। পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তরে থাকা প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে দাঁড়িপাল্লা।
অথচ চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে প্রজ্ঞা বোঝাতে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি রয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগ বই ইতোমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। এ ছাড়া নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ চলছে।
এদিকে, বইটির বিষয় বিশেষজ্ঞের দায়িত্ব পাওয়া নিয়েও এনসিটিবির ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে। আব্দুল্লাহ আল যোবায়ের ৩৫তম বিসিএসের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা। ২০২৪ সালে গেজেটভুক্ত হওয়ার পর প্রায় এক মাস একটি কলেজে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর এনসিটিবিতে পদায়ন পান।