তিন্নির ময়না তদন্ত সম্পন্ন, প্রতিবেদন বিশ্বাস করতে পারছেন না স্বজনরা

তিন্নির ময়না তদন্ত সম্পন্ন, প্রতিবেদন বিশ্বাস করতে পারছেন না স্বজনরা

উলফাত আরা তিন্নি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রাক্তন ছাত্রী উলফাত আরা তিন্নির ময়না তদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। সেই সাথে পাওয়া যায়নি নির্যাতনের আলামতও। এমনটাই বলেছেন চিকিৎসক। এটিকে ঝুলন্ত অবস্থায় আত্মহত্যাও বলা হয় প্রতিবেদনে। 

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরএমও ডা. তাপস কুমার সরকার এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, তিন্নির শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। সেই সাথে নির্যাতনেরও আলামত পাওয়া যায়নি। এটি একটি ঝুলন্ত অবস্থায় আত্মহত্যা। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন কুষ্টিয়া সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে তদন্ত প্রতিবেদনকে বিশ্বাস করতে পারছেননা তিন্নির স্বজনরা। নিজ চোখে ছোট বোনকে নির্যাতিত হতে দেখে ও তার কান্না শোনার পরও প্রতিবেদনে নির্যাতনের আলামত না থাকায় বিস্মিত হয়েছেন বড় বোন মুন্নি।

তিনি প্রতিবেদন সম্পর্কে বলেন, আমি এই প্রতিবেদনকে বিশ্বাস করতে পারছিনা। ভাবছি টাকা-পয়সা দিয়ে এটা পরিবর্তন করা হলো কিনা। কারণ তিন্নির রুমে আমি তাঁকে (জামিরুল) চাক্ষুষ দেখেছি। তাই আমি বিশ্বাস করতে পারছিনা কিছু একটা না ঘটলে তিন্নি আত্মহত্যা করবে।

স্বজনদের অভিযোগ, সাবেক দুলাভাই জামিরুল ও তার সহযোগীরা জোর করে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে তিন্নীর শোবার ঘরে ঢুকে তাঁকে নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করেন। এরপরই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিন্নি।

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শেখপাড়া এলাকায় নিজেদের দোতলা বাড়ির নিজ কক্ষ থেকে তিন্নিকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। শেখপাড়া গ্রামের মৃত মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলীর মেয়ে তিন্নি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

এ ঘটনায় গত শুক্রবার তিন্নীর মা হালিমা বেগম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত চার জনকে আটক করেছে পুলিশ।