তাহসিফ হত্যা মামলায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ
ছবি সংগৃহীত।
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) তাকে আদালতে হাজির করার জন্য আনা হয়েছে।
বর্তমানে তিনি আদালতের হাজতখানায় রয়েছেন। বিকেল ৩টার দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালতে তার রিমান্ড আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ-পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন রিমান্ড আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, জুনিয়র বন্ধু দীপের সঙ্গে দেখা করতেই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি।
ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে সিসিটিভি ফুটেজে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যায়। পরে তাঁরা আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান।
পরিবারের কাছে দীপ জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাঁরা সেটি মেরামতের জন্য ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন। পরে একসঙ্গে খাবার খেয়ে আলাদা হয়ে যান। তবে তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার পর ওই রাতের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পরদিন তাকে নিয়ে তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে তার এ বক্তব্যের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরে পিবিআইয়ের তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং দীপকেও তাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
শনিবার সকালে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ না থাকলেও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দীপকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়।