গ্যাসের সংকট, ইনডাকশন চুলা কেনার আগে ৭ বিষয়ে নজর রাখুন

গ্যাসের সংকট, ইনডাকশন চুলা কেনার আগে ৭ বিষয়ে নজর রাখুন

ছবি সংগৃহীত।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ছে রান্নাঘরেও। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে গ্যাস সরবারহ বন্ধ থাকবে এমনটাই জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। এছাড়া আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে বিভিন্ন দেশে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে অনেকেই ঝুঁকছেন ইনডাকশন চুলার দিকে। বিদ্যুতে চলে বলে রান্নার কাজে এটি বেশ সুবিধাজনক। তবে বাজার থেকে ইনডাকশন চুলা কিনলেই যে সব ধরনের রান্না করা যাবে, তা নয়। কেনার আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই না করলে পরে বিপাকে পড়তে পারেন।

১. বিদ্যুৎ খরচ ও ওয়াট দেখে কিনুন

ইনডাকশন চুলা কেনার সময় প্রথমেই এর বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষমতা বা ওয়াট যাচাই করুন। সাধারণত ১০০০ থেকে ২০০০ ওয়াট ক্ষমতার ইনডাকশন কুকটপ ঘরের রান্নার জন্য ব্যবহার করা যায়। বেশি ওয়াটের চুলায় সাধারণত দ্রুত তাপ তৈরি হয়, ফলে রান্নার সময় কম লাগতে পারে। তবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণও বিবেচনায় রাখতে হবে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও রান্নার ধরন অনুযায়ী ক্ষমতা নির্বাচন করাই ভালো।

২. বাসার হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহার করা যাবে কি না

ইনডাকশন চুলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রান্নার পাত্র। সব ধরনের হাঁড়ি বা কড়াই এতে কাজ করে না। চৌম্বকীয় তলযুক্ত পাত্র ব্যবহার করতে হয়। স্টেইনলেস স্টিলের কিছু পাত্র এবং কাস্ট আয়রনের হাঁড়ি সাধারণত ইনডাকশনে ব্যবহার করা যায়। অ্যালুমিনিয়াম, কাচ কিংবা সাধারণ মাটির পাত্র সরাসরি কাজ করে না, যদি না সেগুলোর তলায় বিশেষ উপযোগী স্তর থাকে।

পাত্রটি ইনডাকশনে ব্যবহার করা যাবে কি না, তা পরীক্ষা করতে তলার সঙ্গে একটি চুম্বক লাগিয়ে দেখতে পারেন। চুম্বক আটকে গেলে পাত্রটি ব্যবহারের উপযোগী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কেনার আগে চুলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পাত্রের বিষয়টি নিশ্চিত করুন।

৩. অটো-অফ সুবিধা আছে কি না

নিরাপত্তার জন্য ইনডাকশন চুলায় অটো-অফ সুবিধা থাকা জরুরি। নির্দিষ্ট সময় পর কিংবা অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে এই ব্যবস্থা চুলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করতে পারে। কিছু মডেলে রান্নার পাত্র সরিয়ে নিলেও চুলা বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

৪. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও টাইমার

সব রান্নার জন্য একই মাত্রার তাপ প্রয়োজন হয় না। ভাত, তরকারি, দুধ গরম করা কিংবা ভাজাপোড়ার ক্ষেত্রে তাপের চাহিদা আলাদা। তাই কেনার সময় তাপমাত্রা বা পাওয়ার নিয়ন্ত্রণের একাধিক ধাপ রয়েছে কি না দেখে নিন। টাইমার থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রান্নার ব্যবস্থা করা যায়। ফলে রান্নার সময় বারবার চুলার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না।

৫. বিদ্যুৎ সংযোগের সক্ষমতা যাচাই করুন

ইনডাকশন চুলা তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ টানতে পারে। বিশেষ করে ১৮০০ বা ২০০০ ওয়াটের মডেল ব্যবহারের আগে বাসার বৈদ্যুতিক সংযোগ, সকেট ও তারের সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন। নিম্নমানের মাল্টিপ্লাগ বা এক্সটেনশন বোর্ডে উচ্চ ক্ষমতার চুলা চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সম্ভব হলে উপযুক্ত রেটিংয়ের সকেটে সরাসরি ব্যবহার করুন।

৬. মান ও ওয়ারেন্টি দেখে নিন

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও দামের ইনডাকশন চুলা পাওয়া যায়। শুধু কম দাম দেখে কেনা ঠিক নয়। পণ্যের গায়ে নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃত চিহ্ন রয়েছে কি না, স্পেসিফিকেশন এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা ভালোভাবে যাচাই করুন। বাংলাদেশে কেনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মান সনদ, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং ওয়ারেন্টির বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া জরুরি। 

৭. পানি ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন

ইনডাকশন চুলা ব্যবহার ও সংরক্ষণের সময় শুকনো জায়গা বেছে নিন। রান্নার সময় পানি বা তরল পদার্থ ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত পরিষ্কার করুন। তবে পরিষ্কারের আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। চুলার ওপর ভারী পাত্র আছড়ে রাখা বা ধারালো কিছু দিয়ে পরিষ্কার করাও এড়িয়ে চলুন।

গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ইনডাকশন চুলা কেনার আগে শুধু দাম নয়, বিদ্যুৎ খরচ, পাত্রের উপযোগিতা, নিরাপত্তা ও বাসার বৈদ্যুতিক সংযোগ সবকিছু বিবেচনা করুন। এতে জ্বালানি সংকটের সময়ে বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা যেমন কাজে আসবে, তেমনি অপ্রয়োজনীয় খরচ ও ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব হবে।