পদ্মায় অবৈধ বালু তোলার প্রতিবাদের জেরে হামলা, শিক্ষার্থীসহ গুলিবিদ্ধ ২
প্রতিকি ছবি
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধনে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক স্কুলছাত্রসহ অন্তত সাতজন।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া বড়পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা কর।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাঁড়া ইউনিয়নে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ ও বিরোধ চলছিল। এর প্রতিবাদে সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। এতে আরামবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী অয়ন (১৭) অংশ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানান, সোমবার রাতে মাঝদিয়া পদ্মার তীরসংলগ্ন একটি কফি হাউসে অয়নসহ কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি সেখানে ঢুকে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় অয়নের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। কফি হাউসে থাকা আকাশ খাঁ (২৬) ও সানোয়ার হোসেন (২৬) নামের দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হন। হামলার প্রতিবাদ করতে গেলে অয়নের বড় ভাই অন্তরসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
গুলিবিদ্ধ আকাশ খাঁ জানান, সন্ধ্যায় কফি হাউসে অবস্থানকালে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়। দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় তাঁর মাথায় গুলি লাগে।
হামলার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও আহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা রাতেই প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে ঈশ্বরদী থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। হামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে তাঁরা প্রায় এক ঘণ্টা বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন।
ঘটনার পর থেকে সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। অবৈধ বালু উত্তোলন ও পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।