মাগুরায় ট্রেড লাইসেন্স ফি ও হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন

মাগুরায় ট্রেড লাইসেন্স ফি ও হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন

ছবি: সংগৃহীত

অতিরিক্ত ট্রেড লাইসেন্স ফি, অস্বাভাবিক হারে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি, মশা নিধনে অবহেলা, নাগরিক সেবার বেহাল দশা ও অনিয়মিত পানি সরবরাহের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন মাগুরা পৌর এলাকার ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকেরা। পৌরসভার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও সেবার অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশাসকের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় মাগুরা পৌরসভার সামনে জেলা বণিক সমিতির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা পৌরসভার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাতিল এবং নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও নিবন্ধন ফির পাশাপাশি প্রতিটি লাইসেন্সের বিপরীতে অতিরিক্ত এক হাজার টাকা উৎস কর এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধার্য করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ২০০ টাকা যাতায়াত খরচ বহন করতে হচ্ছে। আগে পৌরসভার মাধ্যমে সহজেই ফি জমা দেওয়া গেলেও নতুন ব্যবস্থায় ভোগান্তি বেড়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, চলতি বছর পৌরসভার হোল্ডিং ট্যাক্স গত বছরের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ বা তারও বেশি বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি পৌর কর্তৃপক্ষ ২০ শতাংশ ট্যাক্স কমানোর ঘোষণা দিলেও ব্যবসায়ীদের দাবি, অস্বাভাবিক হারে বাড়ানোর পর মাত্র ২০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা গ্রহণযোগ্য নয়। এটি তাঁদের সঙ্গে এক ধরনের প্রহসন।

মাগুরা জেলা বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, মাগুরায় প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অথচ পৌরসভার মশা নিধন কার্যক্রম নামমাত্র চলছে। রাস্তাঘাট ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে না। নেই পর্যাপ্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রম। ফলে নাগরিক সেবার মান তলানিতে ঠেকেছে। এ ছাড়া দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে অনেক রাস্তাঘাট সংস্কার না করায় সড়কগুলো খানাখন্দে ভরে গেছে। এতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির পাশাপাশি মানুষের সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে।

পৌরসভার পানি সরবরাহ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, বাসাবাড়ি, অফিস ও হোটেলে নিয়মিত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায়ই মোটর পাম্প বিকল থাকলেও তা মেরামতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। অথচ নিয়মিত পানির বিল আদায় করা হচ্ছে।

মানববন্ধনে জেলা বণিক সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবির রাজা বলেন, ‘মাগুরা পৌরসভার প্রশাসক সাধারণ মানুষের সঙ্গে জুলুম করছেন। যেখানে মানুষ নাগরিক সুবিধা পাওয়ার কথা, সেখানে উল্টো প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে। আপনারা মানুষের সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করুন। অন্যথায় এর চেয়ে বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন ব্যবসায়ী নেতারা।

বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ