লিভারপুলকে হারিয়ে দেড় যুগের অপেক্ষা ঘুচাল ফেনেরবাচে

লিভারপুলকে হারিয়ে দেড় যুগের অপেক্ষা ঘুচাল ফেনেরবাচে

সংগৃহীত ছবি

২০০৮ সালের পর থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে জয়ের অপেক্ষা ফুরাল ফেনেরবাচের। দীর্ঘ ১৮ বছর পর ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় জয়ের দেখা পেল তুরস্কের ক্লাবটি।

ইস্তাম্বুলে নিজেদের মাঠে ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে অপেক্ষার অবসান ঘটাল তারা।

মজার ব্যাপার হলো, ফেনেরবাচের আগের জয়টিও এসেছিল ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে। ২০০৭-০৮ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে চেলসিকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল তারা। সেই জয়ের ১৮ বছর পর আবারও ইংলিশ প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে জয় পেল তুর্কি ক্লাবটি।

লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালোই হয়েছিল ফেনেরবাচের। তবে ২৫ মিনিটে মিডফিল্ডার ট্রে নিয়োনির গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুল। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া ভলি ফেনেরবাচের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। ১৯ বছর বয়সী নিয়োনির লিভারপুলের জার্সিতে এটি প্রথম গোল।

তবে লিভারপুলের সেই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র চার মিনিট। ২৯ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সমতা ফেরান মেসন গ্রিনউড। তাঁর নেওয়া শট ফেনেরবাচের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করায় কিছুই করার ছিল না লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের।

বিরতির পরও দুই দলের লড়াই ছিল জমজমাট। ৬৬ মিনিটে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন লিভারপুল কোচ আন্দোনি ইরাওলা।

মাঠে নামেন ফ্লোরিয়ান ভির্টৎজ, আলেক্সান্দার ইসাক ও কোডি গাকপো। তিন মিনিট পরই তাঁদের যৌথ প্রচেষ্টায় আবার এগিয়ে যায় লিভারপুল। গাকপোর ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ইসাক। লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তাঁর প্রথম গোল।

তবে শেষ ১৭ মিনিটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ফেনেরবাচে। ৭৩ মিনিটে সমতা ফেরান আর্চি ব্রাউন। ডানদিক থেকে এনগোলো কান্তের বাড়ানো বল বক্সে পেয়ে যান ব্রাউন। কোডি গাকপোর গায়ে লেগে বলের দিক পরিবর্তন হলে সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি তিনি।

এরপর ৭৯ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন বদলি নামা ভেদাত মুরিকি। ব্রাউনের ক্রসে উঁচুতে লাফিয়ে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান এই কোসোভান স্ট্রাইকার। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটিই তাঁর প্রথম গোল।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে ১০ ম্যাচের জয়খরা কাটিয়েছে ফেনেরবাচে। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়নস লিগে এবার চার ম্যাচে ১০ গোল হজম করেছে লিভারপুল। সর্বশেষ তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই অন্তত তিনটি করে গোল খেয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি।

ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ক্লাবটির ইতিহাসে টানা তিন ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোল হজমের ঘটনা এই প্রথম। এ ছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগে তুরস্কের ক্লাবগুলোর বিপক্ষে টানা পাঁচটি অ্যাওয়ে ম্যাচে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতাও হলো তাদের।

তবে লিভারপুল কোচ ইরাওলার জন্য সবচেয়ে হতাশার পরিসংখ্যান হতে পারে অন্যটি। বড় ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় মাত্র তৃতীয়বার কোনো ম্যাচে দুবার এগিয়ে থেকেও হারের মুখ দেখল দলটি। এর আগে ২০১৮ সালে রোমা ও ২০২৫ সালে পিএসভির বিপক্ষেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল লিভারপুলের।