অসহায় মায়ের কান্নায় ছুটে এলেন ইউএনও, নিরাপদে জন্ম নিল নবজাতক

অসহায় মায়ের কান্নায় ছুটে এলেন ইউএনও, নিরাপদে জন্ম নিল নবজাতক

সংগৃহীত ছবি

অর্থের অভাবে প্রসব বেদনায় কাতর মেয়েকে নিয়ে উপজেলা পরিষদের ফটকে কাঁদছিলেন মা। সেই কান্নায় এগিয়ে এলেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।

খবর পেয়ে ছুটে গেলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। প্রশাসন ও তরুণদের এমন তাৎক্ষণিক ও মানবিক পদক্ষেপে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিরাপদে এক ফুটফুটে নবজাতকের জন্ম হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদ চত্বর ও স্থানীয় একটি মাতৃসেবা ক্লিনিকে এই মানবিক ঘটনাটি ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রসূতি ওই নারীর নাম সাগরিকা।

তিনি রাণীশংকৈল পৌর শহরের নয়নপুর মহল্লার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মাধবী কর্মকারের মেয়ে। কয়েক মাস আগে স্বামীকে হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন তিনি। সন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলে অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিল না তার পরিবার। কোনো উপায় না পেয়ে বুধবার দুপুরে মেয়েকে নিয়ে সহায়তার আশায় উপজেলা পরিষদে ছুটে যান মা মাধবী।

সেখানে পৌঁছানোর পর প্রসব বেদনায় সাগরিকা ছটফট করতে থাকলে উপজেলা পরিষদের মূল ফটকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

মাধবীর কান্না শুনে পথচারীদের পাশাপাশি এগিয়ে আসেন উপজেলা ছাত্রদলের নেতা রাব্বি হোসেনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। অবস্থা বেগতিক দেখে তারা দ্রুত সাগরিকাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ‘মাতৃসেবা ক্লিনিকে’ ভর্তি করেন এবং উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন।

খবর পাওয়ামাত্রই ক্লিনিকে ছুটে যান রাণীশংকৈলের ইউএনও ইশরাত জাহান। তিনি চিকিৎসাধীন সাগরিকার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে সুচিকিৎসার নির্দেশ দেন এবং পরিবারটিকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অবসান ঘটে চরম অনিশ্চয়তার, নিরাপদে পৃথিবীর আলো দেখে ওই নবজাতক।

ঘটনার বিষয়ে ছাত্রদল নেতা রাব্বি হোসেন বলেন, ‘মাধবী মাসির কান্নার শব্দ শুনে আমরা আর স্থির থাকতে পারিনি। সাগরিকার অবস্থা জানার পর দ্রুত তাকে ক্লিনিকে ভর্তি করে ইউএনও মহোদয়কে জানাই। এমন একটি মানবিক কাজের অংশ হতে পেরে আমাদের খুব ভালো লাগছে।’

রাণীশংকৈলের ইউএনও ইশরাত জাহান বলেন, ‘অন্তঃসত্ত্বা সাগরিকার অসহায়ত্বের কথা শোনামাত্রই আমি ক্লিনিকে ছুটে যাই। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে কিছু সহায়তা করেছি। বিশেষ করে আমাদের ছাত্র ভাইয়েরা চমৎকার ভূমিকা পালন করেছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে প্রশাসন ও যুবসমাজ ভবিষ্যতেও এভাবে একসঙ্গে কাজ করবে।’

নিরাপদে নাতির জন্ম ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা হওয়ায় ইউএনও এবং ছাত্রদল নেতাদের প্রতি অশ্রুসজল চোখে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মাধবী কর্মকার। এ সময় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলীসহ স্থানীয় ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।