ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে ছড়ানো খবরকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি দাবি করেছেন, খামেনি ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ এবং সম্প্রতি তার সঙ্গে টানা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বৈঠক করেছেন।
ইরানে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত মার্চ মাসে নিহত হন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি। তার আকস্মিক মৃত্যুর পর মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর কিছুদিন এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে এবার সেই পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগ পেলেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সাবেক প্রধান মহসেন রেজাই।
ইরানের জন্য সম্ভাব্য বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি বা টোল আদায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশটি বিশ্বের অন্যতম লাভজনক জলপথের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে।
বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্বাসনালী খ্যাত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ইরান। তবে কেবল এই চুক্তিই
যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের ভূপাতিত করা ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ প্রদর্শন করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড।
ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসছে না ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে একাই সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে তার দেশ। তিনি বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
ইউক্রেনের তিনটি স্থাপনায় হামলার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েও শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে ইরান। কিয়েভের পক্ষ থেকে ‘দুঃখ প্রকাশ’ করার পরই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হরমুজ প্রণালীর আকাশসীমায় উড়তে থাকা একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নজিরবিহীন সামরিক শক্তি প্রয়োগের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। তবে ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কয়েকটি দেশ সমঝোতার অনুরোধ জানালে সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।