যুদ্ধের মেঘ কাটতে না কাটতেই এবার শুরু হয়েছে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ। পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর, পানির ওপর এখন কেবলই মার্কিন রণতরীর গর্জন। একদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লৌহবর্মী নৌ-অবরোধ, অন্যদিকে তেহরানের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সাধারণ মানুষ। প্রশ্ন একটাই, কে আগে পলক ফেলবে, কে হার মানবে?
ইরানে
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে পাকিস্তান তার ‘আন্তরিক ও সৎ প্রচেষ্টা’ অব্যাহত রাখবে বলে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে আশ্বস্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) এক ফোনালাপে দুই দেশের শীর্ষ নেতা চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই পাকিস্তান ছেড়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। তবে ওমান সফর শেষে তিনি আবার পাকিস্তানে যেতে পারেন বলে জানিয়েছে ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি। এরপর তাঁর রাশিয়া যাওয়ার কথা রয়েছে।
ইরান থেকে শত শত কোটি ডলারের তেল কেনার অভিযোগে চীনের স্বাধীন ‘টিপট’ (teapot) শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ইরানের শাসনব্যবস্থায় বিভেদ দেখা দিয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা যে দাবি করেছেন, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান আগের চেয়ে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ এবং নেতৃত্বে কোনো বিভাজন নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘উপযুক্ত এবং লাভজনক’ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে চুক্তি হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায়, ইরানকে বস্তুগত সহায়তা দিচ্ছে—এমন সন্দেহভাজন জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইরান সংলাপ ও সমঝোতাকে স্বাগত জানায় এবং তা অব্যাহত রেখেছে। তবে তিন কারণে আলোচনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা খর্ব করার লক্ষ্যে আনা একটি প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে আবারও নাকচ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনায় ইরান অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি।