মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। জীবনে নানা ধরনের গুনাহ ও অপরাধ হয়ে যেতে পারে। ইসলাম এ ধরনের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার শিক্ষা দিয়েছে। ইস্তিগফার অর্থ হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
ইস্তিগফার
ইস্তিগফার তথা ‘ক্ষমা চাওয়া’ শব্দটি এসেছে আরবি ‘গাফারা’ শব্দমূল থেকে, যার অর্থ হলো ঢেকে দেওয়া বা গোপন রাখা। অর্থাৎ যখন আল্লাহ কোনো বান্দার পাপ ঢেকে দেন বা প্রকাশ করেন না, তখনই তিনি তাকে ক্ষমা করেন। পরিভাষায় ইস্তিগফার হলো—এমন একটি আবেদন, যেখানে বান্দা নিজের দ্বারা সংঘটিত পাপ ও সীমা লঙ্ঘনের জন্য আল্লাহর কাছে দয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করে। মুসলমানদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার প্রয়োজন নেই—তার ঈমান যতই দৃঢ় হোক বা তার ধার্মিকতা যতই উচ্চমানের হোক না কেন।
ইস্তিগফার অর্থাৎ আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পবিত্র কোরআনে ইস্তিগফারের গুরুত্ব ও ফজিলত বারবার আলোচনা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন আয়াতে এর মাধ্যমে আল্লাহর অসংখ্য রহমত, বরকত ও দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণের কথা বলা হয়েছে।
ব্যক্ত, পরিবার বা সামাজিক জীবনে মানুষ বহু ধরনের পেরেশানিতে ভুগছে। কারো চাকরি নেই, কারো ব্যবসার মূলধন নেই। রিজিকের অভাবে উদ্বিগ্নতা, দুঃখ-দুঃশ্চিন্তা, পারিবারিক সমস্যা। এগুলো প্রতিদিনের জীবনকে অসহ্য করে তোলে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বান্দাকে নানাভাবে পরীক্ষা করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা, সম্পদহানি, প্রাণহানি ও ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে; তুমি সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের।
পাপ মানুষের জীবনকে কলুষিত করে। ইস্তিগফার মানুষকে সেই কলুষতা থেকে মুক্তি দান করে। মানবজীবনকে করে নির্মল।
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। মাঝে মধ্যে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে সে কথা মানুষ বেমালুম ভুলে যায়। চলতে শুরু করে বিপথে। শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করে ফেলে।
গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করার নামই ইস্তিগফার। মানুষ যতই গুনাহ করুক, মহান আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠচিত্তে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা ক্ষমা করেন।