দেশের উপকূলে আঘাত হানা প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে দেখতে বুধবার (৫ জুন) পটুয়াখালী পরিদর্শনে যাবে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।
ঘূর্ণিঝড়
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ২ লাখ মানুষ সুপেয় ও ব্যবহার উপযোগী পানি পাচ্ছে না। ঘূর্ণিঝড় রেমালের জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এ উপজেলাটির পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নের সকল জলাধারে প্রবেশ করেছে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি, গাছপালার পাতা, হাঁস-মুরগির মৃতদেহ, ড্রেন ও সেপটিক ট্যাংকের ময়লা আবর্জনা
ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে বরগুনায় একজন নিহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ।এছাড়া বেড়িবাঁধ, মৎস্য, কৃষি, টিউবওয়েল, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদে ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতক্ষীরা ১ ও ২-এর অধীনে ২০টি পয়েন্টে এসব বাঁধ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণের জন্য আজ পটুয়াখালীর কলাপাড়া যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আজ বৃহস্পতিবার (৩০ মে) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে রওনা হয়ে দুপুরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী।
ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চারটি রাজ্যে ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসে কমপক্ষে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এই অঞ্চলের আটটি রাজ্যে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
উপকূলের রক্ষাকবজ সুন্দরবন। সেই সুন্দরবন ক্ষতবিক্ষত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে। ঝড় চলে গেলেও সুন্দরবনে রয়ে গেছে সেই ক্ষতচিহ্ন। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে ৪০টি বন্যপ্রাণীর মরদেহ। বনের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল এসব মৃতদেহ।
ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ৮৪ লাখের বেশি মানুষ স্বাস্থ্য, পুষ্টি, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে পড়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৩২ লাখ শিশু। সোমবার (২৭ মে) বাংলাদেশে ইউনিসেফ প্রতিনিধি শেলডন ইয়েটের সই করা এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে নোয়াখালীর উপকূলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ৩৩ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঁচ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্তসহ দুই হাজারের বেশি গবাদিপশু ভেসে গেছে।রবিবার রাত থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দমকা হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন প্রায় ১১ টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়েছেন।