কক্সবাজারে টানা ৯ দিনের বর্ষণজনিত বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পানি এখন অনেক এলাকায় নেমে গেছে। কিন্তু পানির সঙ্গে ভেসে গেছে হাজারো মানুষের বছরের সঞ্চয়, জীবিকার অবলম্বন, আর নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন।
বন্যা
সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী কুরমাছড়া এলাকায় বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও রান্না করা খাবার বিতরণ করেছে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি বলেছেন, চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ও বন্দর নগরী।
কক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যায় দুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)।
সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়ে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে এতে দুর্ভোগ কমেনি। কোথাও এখনো কোমরসমান, কোথাও হাঁটুপানি রয়েছে। আর যেসব এলাকায় পানি নেমেছে, সেখানে একে একে সামনে আসছে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, ধসে পড়া দেয়াল ও নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসলের চিত্র।
চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিভাগের তত্ত্বাবধানে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কুড়িগ্রামে ফের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ সবকটি নদ-নদীর পানি অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোমবার বিকেল থেকে এসব নদ-নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
টানা ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ জেলার মানুষদের সহায়তায় ১ কোটি ২০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অক্সফাম ইন বাংলাদেশ। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে ৩০ লাখ ইউরো তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার প্রায় ৫ দিন পর পানি কমতে শুরু করেছে।