টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের তীরবর্তী বসবাসকারী রাঙ্গামাটির ছয়টি উপজেলার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
মানুষ পানিবন্দি
নোয়াখালী প্রতিনিধি:টানা চার দিনের পাহাড়ি ঢল ও মুষলধারে বৃষ্টিপাতের পর টানা দুদিন নোয়াখালীতে রোদ্রৌউজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করছে। এতে অধিকাংশ উপজেলায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর, দুর্গাপুর ও লক্ষীনারায়ণপুর গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামে পানি বেড়েছে।
তিস্তাপাড়ের বন্যায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ৮ উপজেলায় প্রায় ৬০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্রায় ১৫ হাজার পরিবার নিদারুণ কষ্টে দিনানিপাত করছে।
ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজের প্রায় সবকটি গেট খুলে দেওয়ায় ভয়াবহ নদী ভাঙনের পর এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়নপুর ও আলাতুলী ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে বন্যা। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষ।
কক্সবাজারের পেকুয়া-চকরিয়ায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে অন্তত ২০ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছে।
গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে তলিয়ে গেছে মৌলভীবাজার জেলার সদর, রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী ও কমলগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের অসংখ্য বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
গত কয়েক দিনের টানা অব্যাহত ভারী বর্ষণে নোয়াখালীর সেনবাগের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
টানা তিনদিনের ভারী বর্ষণে উখিয়া উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে আনুমানিক ১০ হাজার মানুষ।
পাহাড়ি ঢল, বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পানি কমায় সিলেটের আটটি উপজেলায় শুক্রবার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে সিলেট নগরে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে পানি ঢুকছে। এতে পানিবন্দি হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। আর উপজেলাগুলোতে বন্যায় পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ।
সিলেটে বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা। জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৭টিতে বন্যা দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে পাঁচটির অবস্থা ভয়াবহ। জেলা প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৭ উপজেলায় ৫ লাখ ৩৩ হাজার ২০২ জন বন্যাকবলিত হয়েছেন।