বন্যার পানিতে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন। আজ দুপুরে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম সিলেট রেলওয়ে স্টেশন আপাতত বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দেন।
সিলেট
সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢল আর অতি ভারী বৃষ্টিতে নদনদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যার আরো বিস্তৃতি ঘটেছে।
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ অবস্থায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের সবকটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে দুই জেলা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
কয়েকদিন আগের ভয়াবহ বন্যায় সিলেট অনেকটা বিপর্যস্ত হয়েছিল। আস্তে আস্তে পানি নামলেও ক্ষতি পুরোপুরি সারেনি। এরই মধ্যে গত চার দিনের প্রবল বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ফের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
সিলেট জেলার জৈন্তাপুরে টিলা ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে।সোমবার ভোরে উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের সাতজনি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বন্যার পানি নামতে না নামতেই সিলেটে ডায়রিয়া ও চর্মরোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। সিলেটে ডায়রিয়ায় ১১৪ জন ও চর্মরোগে ছয় জন আক্রান্ত হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. এস এম শাহরিয়ার জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের
কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেট নগরী এবং জেলার ১৩ উপজেলার গ্রাম থেকে গ্রামান্তর নদীর পানিতে একাকার। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সিলেট নগরীতে আরো দুই ইঞ্চি পানি বেড়েছে।
থেমে থেমে পানি বেড়ে সিলেটের বেশির ভাগ এলাকাই এখন ভাসছে বন্যার পানিতে। উজানে বৃষ্টি না থামলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে এমনটা আশঙ্কা করা হচ্ছে খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে। জেলা প্রশাসনের হিসেবে সিলেটের ছয়টি উপজেলা বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি উঠে গেছে নগরের বেশির ভাগ এলাকায়। পানির তোরে ভেঙে যাচ্ছে নদীরক্ষা বাঁধ।
উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সুরমা-কুশিয়ারাসহ সিলেটের সব নদ-নদীতে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
রমজান মাসে সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃক মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেওয়ায় আন্দোলনে যাচ্ছেন মাংস ব্যবসায়ীরা। যতদিন তাদের দাবি না মানা হবে, তত দিন গরু-ছাগলের মাংস বিক্রি করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন তারা।