বন্যা পরিস্থিতিতে পানিতে ডুবে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, বজ্রপাত ও টিলাধসে এক সপ্তাহে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে কমপক্ষে ২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। তবে, দুই জেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় সব তথ্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট
সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে তিনি এই তিন জেলা পরিদর্শনে রওনা হন।
সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও এখনো লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।
মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় দেশের কিছু অংশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরো বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
সিলেটে বন্যার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে করে সেখানে মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির আভাস তৈরি হয়েছে। সুনামগঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সিলেটে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি এখনও বাড়ছে। তবে, বৃষ্টি কমায় কিছু কিছু এলাকায় পানি কমছে।দুর্গত এলাকার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) বন্যার কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা আগামী ৩০ জুন পযর্ন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
সিলেট শহরে কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও গলাসমান। আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষেরা খাবারের জন্য তাকিয়ে আছে সহায়তার দিকে। এর মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টা সিলেটে সর্বোচ্চ ৩০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
উজান থেকে আসা পানি ও টানা চার দিনের বৃষ্টিপাতের কারণে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের জেলা সিলেটের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও টেলিযোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে সুনামগঞ্জ জেলা থেকে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
সিলেটে বন্যাদুর্গত এলাকায় পানিবন্দী লোকজনকে উদ্ধারে কাজে যোগ দিয়েছে নৌবাহিনী। আজ শনিবার সকাল থেকে নৌবাহিনীর ৩৫ সদস্য দুটি টিমে ভাগ হয়ে কাজ শুরু করেছেন।সিলেটের জেলা প্রশাসক মো: মজিবর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।