সৌন্দর্য বিলাচ্ছে মাঠ ভরা হলুদ সরিষা; যশোরে চাষ বাড়াতে ২৬ হাজার কৃষককে প্রণোদনা
ছবি: প্রতিনিধি
টিআই তারেক : লাগামহীন মূল্যের ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে সরিষা বিকল্প শস্য। সরিষা উৎপাদন বৃদ্ধি করা গেলে ভোজ্য তেলের সংকট সমস্যার সমাধান হতে পারে। এই দিক থেকে যশোরের কৃষকরা এগিয়ে। প্রতিবছর সরিষা আবাদে ঝুঁকছেন তারা। এতে একদিকে যেমন কৃষকদের নিজেদের ভোজ্য তেলের চাহিদা মিটবে, তেমনি প্রয়োজন অতিরিক্ত সরিষা বিক্রি করে লাভবান হওয়ার আশা তাদের। যশোরের অধিকাংশ ফসলের মাঠে এখন হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহ।
ফসলের মাঠে হলুদ সরিষার এমন দৃশ্য দেখা যায় যশোর সদরের বাউলিয়া, ফতেপুর, চাঁদপাড়া, মন্ডলগাতি পতেঙ্গালী ও বাঘারপাড়ার হাবুল্লাহর, বলদেঘাটা মহিরোনের বিভিন্ন মাঠে । প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সরিষার বাম্পার ফলনে লাভবানের আশা কৃষকের। হাসি ফুটেবে তাদের মুখে। আর সরিষা চাষ বাড়াতে কৃষকদের প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। যশোর জেলায় মোট ২৬ হাজার কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে বিজ ও সার দেয়া হয়েছে। এ বছর সরিষা উপাদনের লক্ষ্যমাত্র ধরেছে ৩২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে।
যশোর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পতিত জমিতে অনেকেই আগাম সরিষা আবাদ করেছে। ইতোমধ্যে সে সব ক্ষেতে সরিষায় ফুল আসতে শুরু করেছে। এছাড়া এখনও অনেকেই বপণ করছে। গত মৌসুমে যশোর জেলায় ২৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু উৎপাদন হয়েছিল ৩১ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগ এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ধরেছে ৩২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে যশোর জেলার আট উপজেলায় মোট ২৫ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে।
কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, সোমবার(৯ ডিসেম্বর) পর্যন্ত যশোর জেলার সদর উপজেলায় এ বছর সরিষা আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে। শার্শা উপজেলায় এ বছর সরিষা আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে। চৌগাছা উপজেলায় এ বছর সরিষা আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে। অভয়নগর উপজেলায় এ বছর সরিষা আবাদ হয়েছে এক হাজার ৯৬০হেক্টর জমিতে। বাঘারপাড়া উপজেলায় এ বছর সরিষা আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। মনিরামপুর উপজেলায় এ বছর সরিষা আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে। কেশবপুর উপজেলায় এ বছর সরিষা আবাদ হয়েছে এক হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে।
বাঘারপাড়া উপজেলার হাবুললা গ্রামের সরিষা চাষি তবিবর জানিয়েছেন, বাজারে সয়াবিন বা ভোজ্য তেলের দাম প্রতি লিটার ১৯০ থেকে ২১০ টাকা। এক লিটার তেল এত টাকা দিয়ে কিনে খেতে কষ্ট হয়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তারা সরিষার আবাদ বাড়িয়েছেন। এ বছর দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আগে আমাদের এ জমিতে মুগ, মসুর ও খেসারি কলাই চাষ করতাম।
সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রামের সফিয়ার মোল্লা বলেন, বাজারে তেলের খুব দাম। তাই আমরা সরিষা লাগিয়েছি। এই সরিষা থেকে তেল হবে আর সেই তেল আমরা সারা বছর খাব। সারা বছর তেল কিনতে হবে না। তিনি বলেন, বাজারের সয়াবিনে ভেজাল থাকে। কিন্তু আমাদের উৎপাদিত তেলে কোনো ভেজাল থাকছে না।
কিশোর দাস নামের এক চাষি বলেন, গাছে যেভাবে ফুল বা ফল এসেছে তাতে মনে হয় ফলন ভালো হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সরিষার বাম্পার ফলনে লাভবানের আশা করছেন ।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, তেলজাতীয় ফসল চাষের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কৃষকদের সরিষা চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। যশোর জেলায় ৩২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদেও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরিষা চাষ বাড়াতে যশোর জেলায় মোট ২৬ হাজার কৃষককে প্রণোদনা হিসাবে বিজ ও সার দেয়া হয়েছে।