কুয়াকাটার শুটকি পল্লী নারীদের জীবিকার উৎস
কুয়াকাটার শুটকি পল্লী নারীদের জীবিকার উৎস
টিআই তারেক কুয়াকাটা থেকে ফিরে: পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন আকর্ষণীয় টুরিজম স্পট শুটকি পল্লী।
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ৭কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত পশ্চিম খাজুরা এলাকা। এখানে সারিসারি টিনের দোকান এবং জেলেদের মাছ ধরা অসংখ্য বড় নৌকা চোখে পড়বে। মূলত নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এই পল্লীতে চলে শুটকি তৈরির কাজ। সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এনে সৈকতেই শুটকি তৈরি করেন জেলেরা।
কমদামে ভালো মানের শুটকি কিনতে পাওয়া যায় এখানে। পর্যটকরা তাজা মাছ কেটে শুটকি-জাত করার দৃশ্য দেখতে ভিড় জমান। অবলোকন করেন জেলেদের ইলিশ শিকারে সাগরের ঢেউয়ের সাথে মিতালি করা জীবন জীবিকার যুদ্ধ। দেখতে পান বেড় জালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকারের অনন্য দৃশ্য।
সাগর থেকে জেলেদের ধরা মাছ কেটে এখানে শুকানো হয়।। তাই এই বাজারের নাম শুটকি পল্লী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। জেলেরা উত্তাল সমুদ্র থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সংগ্রহ করেন। যা সাগর পাড়ের মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস।
কয়েক হাজার মানুষ এই মাছ ধরা কাজের সাথে সরাসরি জড়িত। প্রচুর পরিমান মাছ ধরা পড়ে জেলেদের জালে। শুটকি এখানকার অর্থনীতির প্রধান উৎস। শুকনো মাছকে বলা হয় শুটকি। এগুলো প্রসেস করে সংরক্ষণ করে বিদেশে রপ্তানি করা হয়।
শুটকি মাছ প্রসেসিংয়ের সাথে এই অঞ্চলের নারীরা সরাসরি জড়িত। জেলে রমনীদের আয়ের অন্যতম উৎস এই শুটকি প্রসেসিং কাজ। বাঁশের মাচায় মাছ শুকানোর কাজ করা হয়। নারীরা দলে বেধে বসে শুটকিগুলো প্রসেসিং করে বাজারজাত উপযোগী করেন। শুটকিগুলো পলিব্যাগে সংরক্ষণ করে দোকানীরা ক্রেতা আকর্ষণ করেন।
লেবুর বনের দোকানে ২২ বছর যাবত ব্যবসা করা নারী জানালেন, দোকানে কাঁচা মাছ এবং ফ্রাই করা মাছ সরাসরি বিক্রি করেন। আয় করেন প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫ হাজার টাকা। এর ওপর তার সংসার। এটা করেই চলে তাদের জীবন। ৫ আগস্টের আগের থেকে এখন ব্যবসা ভাল। পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। সন্ধ্যায় সাগর থেকে ধরা তাজা মাছের বারবিকিউ এবং ফ্রাই করে বিক্রি করেন। এতে তার ভালই চলছে।
দেশি-বিদেশী পর্যটকরা এসব দোকানে বসেই ফ্রাই করা মাছের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন। সাগরপাড়ে বসে জ্যান্তমাছ ফ্রাই করে খাওয়ার মজায় আলাদা।
শুটকি পল্লীতে ছোট বড় নানা রকম মাছ, মাছের কাটা এবং চামড়া আলাদা শুকানো দেখা গেল। ছোট সাইজের মাছ বিছানায়, বড় সাইজের মাছগুলো কেটে বাঁশে ঝুলিয়ে শুকানোর দৃশ্য নজর কাড়ে। এখানে আসলে নাম না জানা বিচিত্র সব মাছের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ মেলে। কুয়াকাটায় আসা পর্যটকরা তাই কোন ভাবেই শুটকি পল্লী মিস করতে চান না। মেরিন ড্রাইভ দিয়ে ভ্যানে বা অটোতে দলে দলে নারী-পুরুষ ছুটে যান সেখানে। এছাড়া এখান থেকে বিরল সূর্যাস্ত দেখার সুযোগও মেলে।
পর্যটকদের আধুনিক সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হোক, দুধে ভাতে বেচে থাক শুটকি পল্লীর ঘেটে খাওয়া মানুষগুলো এমনটাই প্রত্যাশা।