টানা পঞ্চম জয় পেল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স

টানা পঞ্চম জয় পেল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স

সংগৃহীত

আইপিএলের শুরুটা তেমন ভালো হয়নি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের। প্রথম পাঁচ ম্যাচের মধ্যে কেবল একটিতে জয়ের দেখা পেয়েছিল হার্দিক পান্ডিয়ার দল। তবে ইনজুরি কাটিয়ে জাসপ্রীত বুমরাহ দলে যোগ দেওয়ার পর চিত্রপট বদলেছে। প্রথম পাঁচ ম্যাচে এক জয় পাওয়া দলটি পরের পাঁচ ম্যাচের সবগুলোতে জয়ের দেখা পেয়েছে। 

রোববার (২৭ এপ্রিল) সর্বশেষ ম্যাচে তারা হারিয়েছে লখনৌ সুপারজায়ান্টসকে।

ব্যাট হাতে সূর্যকুমার যাদব এবং রায়ান রিকেলটনরা কাজটা সহজ করে দিয়ে গিয়েছিলেন বোলারদের জন্য। বল হাতে বাকি কাজটা করেছেন জাসপ্রীত বুমরাহ, ট্রেন্ট বোল্ট এবং উইল জ্যাকস। মুম্বাইয়ের দেওয়া ২১৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে মিচেল মার্শ, নিকোলাস পুরান এবং আয়ুশ বাদোনিরা চেষ্টা করেছেন প্রাণপণ। তবে বুমরাহদের সামনে সেই প্রচেষ্টা পাত্তাই পায়নি।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে লখনৌকে ৫৪ রানে হারিয়েছে মুম্বাই। শুরুতে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভার শেষে ২১৫ রান করে মুম্বাই। জবাব দিতে নেমে ১৬১ রানে থামে লখনৌয়ের ইনিংস।

 এই জয়ে আইপিএলের প্রথম দল হিসেবে ১৫০ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছে মুম্বাই। 

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই হয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের। শুরুতেই ঝড় তোলেন রোহিত শর্মা। তবে ৫ বলের বেশি টিকতে পারেননি রোহিত। ১২ রান করে দলীয় ৩৩ রানে বিদায় নেন তিনি।

 রোহিতের বিদায়ের পর উইল জ্যাকসকে নিয়ে ৫৫ রান যোগ করেন রায়ান রিকেলটন। ব্যক্তিগত পাঁচ রানের মাথায় রান আউট হতে হতে বেঁচে যাওয়া মুম্বাই ওপেনার ফেরেন ৩২ বলে ৫৮ রান করে। শেষ পর্যন্ত তার ৬ চার ও ৪ ছক্কার ইনিংসটিই হয়ে আছে দলীয় সর্বোচ্চ।

রিকেলটনের বিদায়ের পর হাল ধরেন সূর্যকুমার যাদব। চারটি করে চার-ছক্কায় ২৮ বলে ৫৪ রান করে ফেরেন তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে  আইপিএলে ৪ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। এই মাইলফলকে বলের হিসাবে তৃতীয় দ্রুততম ভারতীয় তারকা। তার চেয়ে কম বলে চার হাজারে ছুঁয়েছেন ক্রিস গেইল (২৫৬৮) ও এবি ডি ভিলিয়ার্স (২৬৫৮)। সূর্যর লেগেছে ২৭১৪ বল।

শেষদিকে নামান ধীর এবং করবিন বশ ঝোড়ো ক্যামিও ইনিংস খেলেন। ১১ বলে ২৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন ধীর। ১০ বলে ২০ রান করে আইপিএল অভিষিক্ত বশ। আর তাতে ২১৫ রানের সংগ্রহ পায় মুম্বাই।

রান তাড়ায় শুরুতেই এইডেন মার্করামের উইকেট হারায় লখনৌ। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ঝড় তোলেন নিকোলাস পুরান এবং মিচেল মার্শ। ২১ বলে ৪২ রানের জুটি ভাঙেন উইল জ্যাকস। টিকতে পারেননি রিশভ পন্ত। প্রথম বলে চার মেরে দ্বিতীয় বলেই ফেরেন তিনি। 

৬৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর লখনৌকে খানিকটা আশা দেখাচ্ছিলেন আয়ুশ বাদোনি এবং মিচেল মার্শ। তবে ১২তম ওভারে মার্শকে ফেরানো ট্রেন্ট বোল্ট প্রান্ত বদলে ১৫তম ওভারে ফিরিয়ে দেন বাদোনিকেও। ২৪ বলে ৩৪ করেন মার্শ। বাদোনির ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ৩৫।  

১৬তম ওভারে রোহিতের ইমপ্যাক্ট বদলি বুমরাহ তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন লখনৌকে। এর আগে মার্করামকেও ফেরানো বুমরাহ চার উইকেট নিতে খরচ করেন ২২ রান। এ ছাড়া ২০ রানে তিন উইকেট নিয়েছেন বোল্ট।