ভোলাগঞ্জে অভিযান, পাথরবোঝাই শতাধিক ট্রাকে তল্লাশি

ভোলাগঞ্জে অভিযান, পাথরবোঝাই শতাধিক ট্রাকে তল্লাশি

সংগৃহীত

সিলেটের ভোলাগঞ্জ পর্যটনকেন্দ্রের সাদা পাথর এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নজিরবিহীন লুটপাটের ঘটনায় দেশজুড়ে চলছে তুমুল সমালোচনা। এই ঘটনায় চুরি হওয়া পাথর উদ্ধারে ও নিরাপত্তা জোরদারে পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সিদ্ধান্ত হয় চুরি হওয়া পাথর ফেরত এনে আগের অবস্থানে বসানো হবে এবং ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনী মোতায়েন থাকবে।

সিলেটের ভোলাগঞ্জ থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ পাথর উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়া ঠেকাতে প্রশাসনের এমন নির্দেশে বুধবার (১৩ আগস্ট) মধ্যরাতে ভোলাগঞ্জ সড়কের প্রবেশমুখে যৌথবাহিনীর তৎপরতা দেখা গেছে। জাফলং, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন সড়কেও রাতভর অভিযান চালায় তারা। বিভিন্ন সড়কে একের পর এক পাথরবোঝাই ট্রাক থামিয়ে তল্লাশির পাশাপাশি চালক ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পাথরের উৎস যাচাই করা হয়।

আমদানির প্রমাণপত্র যাচাই করে বৈধ পাথরবাহী ট্রাকগুলোকে পরবর্তী গন্তব্যে যেতে দেওয়া হয়। যৌথবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে ট্রাকে করে আনা এসব পাথরের আমদানির প্রমাণপত্র পরীক্ষা করে দেখেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তবে চালকরা অভিযোগ করেন, তাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও হয়রানি করা হচ্ছে। তারা দাবি করেন, ক্রাশার মিলে অভিযান চালানো উচিত।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরকার মামুনুর রশীদ জানান, মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ ট্রাক চেকপোস্টে আটকে রেখে তল্লাশি চালানো হয়েছে। সব ট্রাক যাচাই শেষে যেগুলো অবৈধ প্রমাণিত হবে, সেগুলো জব্দের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সব ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন মেজর মো. রাজিব হোসাইন। তিনি বলেন, পাথরবোঝাই করে শহরের দিকে যেসব ট্রাক যাচ্ছে, আমরা সেগুলো আটক করছি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাথরগুলো পরীক্ষা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ জানান, পাথর চুরির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। এর আগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী রোববার (১৭ আগস্ট) প্রতিবেদন দেবে।

প্রশাসনের পাঁচ দফা সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে- জাফলং ইসিএ ও সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনী মোতায়েন, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের স্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন, অবৈধ ক্রাশিং মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, পাথর চুরির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার এবং চুরি হওয়া পাথর আগের স্থানে ফিরিয়ে আনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে লাগামহীন লুটপাট চলছে। প্রতিদিন শতশত নৌকায় পাথর পাচার হওয়ায় আগের জৌলুস হারিয়েছে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটন স্পট।