সড়ক ও কালভার্টে ভাঙন, ভোগান্তিতে ৩০ গ্রামের বাসিন্দা

সড়ক ও কালভার্টে ভাঙন, ভোগান্তিতে ৩০ গ্রামের বাসিন্দা

ছবি : সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চৌধুরীগাঁও থেকে মনাইকান্দি যাওয়ার পথে একটি কালভার্ট দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের মাঝামাঝি অংশে অবস্থিত কালভার্টটির দুই পাশ ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ৩০টি গ্রামের হাজারো মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ছোট-বড় যানবাহনের চালক-যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালভার্টটির দুপাশ ভেঙে গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে সড়কটি সরু হয়ে পড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি ও তিন চাকার যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে কালভার্টটি ভেঙে গেছে। দুধঘাটা, মঙ্গলেরগাঁও, ছোট কোরবানপুর, বড় কোরবানপুর, মাজলাপাড়া, পাঁচানি, শহিদনগর, শান্তিনগর, নবীনগর, চর গোয়ালদি, কাজিরগাঁও, দুর্গাপ্রসাদ, চৌধুরীগাঁও ও তাতুয়াকান্দিসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। বিশেষ করে প্রতি রোববার কাইকারটেক হাট থেকে আসবাবপত্র ও মালামাল কিনে ফেরার পথে ভোগান্তি পোহাতে হয়। যদিও সোনারগাঁ সরকারি কলেজের সামনে দিয়ে বিকল্প সড়ক রয়েছে, তবে সেটিরও বেহাল দশা। অতিরিক্ত যান চলাচলের কারণে সেখানে নিয়মিত যানজট দেখা দেয়, এতে দুর্ভোগ বেড়েছে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের।

মনাইকান্দি গ্রামের বাসিন্দা রহমত আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই বছর ধরে রাস্তাটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিদিনই শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। অনেক অটোরিকশা গর্তে পড়ে যাত্রী আহত হয়েছেন এমন ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।

সোনারগাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। কলেজে যেতে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। অনেক সময় অটোরিকশা গর্তে পড়ে সাধারণ মানুষ আহত হচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই।

শম্ভুপুরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সাবেদ আলী বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের বরাদ্দকৃত ২ লাখ টাকা দিয়ে বাঁশ বসিয়ে অস্থায়ীভাবে মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু বর্ষার পানির স্রোতে আবারও ভেঙে গেছে। বর্ষা শেষে নতুন করে কালভার্ট মেরামতের কাজ করা হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সোনারগাঁ উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, চৌধুরীগাঁও থেকে মনাইকান্দি সড়কের মাঝামাঝি কালভার্টের অংশবিশেষ ও পাশের রাস্তা ভেঙে গেছে। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সড়কটিকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। পুরোনো কালভার্ট ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।