এই উপদেষ্টা পরিষদ আরো বৈষম্য উৎপাদন করেছে :গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান
সংগ্রহীত ছবি
প্রধান উপদেষ্টার জাতিসংঘের সফরে রাজনৈতিক কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে নেওয়ায় সরকারের সমালোচনা করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তার মতে, নিজেদের প্রটেকশনের স্বার্থে রাজনৈতিক প্রতিনিধি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উপদেষ্টা পরিষদ বৈষম্য করছেন বলেও অভিযোগ তার।
রাজ সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাগণ জাতিসংঘ সফরে তিনটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিজেদের প্রটেকশনের স্বার্থে নিয়ে গেছেন। এ ছাড়া সেখানে রাজনীতিকদের কোনো কাজ নেই। স্বাভাবিকভাবে সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে। হয়তো তারা গালিগালাজ বা উপদেষ্টাদের অপদস্ত করার মত ঘটনা ঘটাবে।
ইতোমধ্যে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা নিরাপত্তার জন্য ব্যানার নিয়ে নেমে গেছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগও আছে। বিদেশের মাটিতে মুখোমুখি অবস্থান! কল্পনা করেন, যদি রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা না যেতো, তাহলে কী বিএনপি- জামায়াতের নেতাকর্মীরা আসতো? না আসলে পরিণতি কি হতো? অর্থাৎ সরকারের উপদেষ্টারা যতোবড় কথায় বলুক না কেন, তারা টিকেই আছে রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন ও সহযোগিতায়।
রাশেদ খান আরো বলেন, আমার মাঝে মধ্যে মনে হয়, বৈষম্য দূর করতে এসে এই উপদেষ্টা পরিষদ আরো বৈষম্যের উৎপাদন করেছে।
জাতিসংঘ সফরে বিএনপির দুই জন প্রতিনিধি ও জামায়াত-এনসিপির একজন করে প্রতিনিধি থাকায় জামায়াত-এনসিপি আপত্তি জানিয়েছে। তারা সরকার থেকে সমতা চায়। মানে নিজেদের মধ্যে সমতার নীতি প্রতিষ্ঠিত হলে আর কোনো দলের প্রয়োজন নেই। এভাবেই সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ গঠন করতে চায়।
সর্বশেষ প্রধান উপদেষ্টার জাতিসংঘ সফরের সফলতা কামনা করেছেন রাশেদ খান।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। রবিবার দিবাগত রাতে দেশের তিনটা রাজনৈতিক দলের ৬ জনসহ সফরসঙ্গীদের নিয়ে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ও জামায়াত নেতা নকিবুর রহমান তারেক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা।