নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ আলাদা, যেসব উপসর্গে সাবধান হবেন

নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ আলাদা, যেসব উপসর্গে সাবধান হবেন

ছবি: সংগৃহীত

হার্ট অ্যাটাক মানে আতঙ্কের নাম। হৃদরোগের কী কী উপসর্গ হয় তা সম্পর্কে ধারণা আছে অনেকেরই। আচমকা বুকে ব্যথা, সারা শরীরে ঘাম হওয়া, চোখের সামনে অন্ধকার দেখা— এগুলো সবই হৃদরোগের উপসর্গ। তবে সবার ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ সমান হয় না। 

বিশেষ করে পুরুষদের শরীরে হার্ট অ্যাটাকের যেসব লক্ষণ ফুটে ওঠে, নারীদের ক্ষেত্রে তেমনটা নাও হতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, নারীদের হৃদরোগের লক্ষণ অনেকটাই আলাদা। অনেকটা নিঃশব্দে হার্ট অ্যাটাক হয় নারীদের। তাই নিঃশব্দ ঘাতক বা ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’ শরীরে থাবা বসানোর আগে বিশেষ লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানা জরুরি। 

অত্যধিক শারীরিক পরিশ্রম, ঠিকমতো পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া মহিলাদের হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম বড় কারণ বলেই মনে করছেন চিকিৎসকেরা। রজোনিবৃত্তির পরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমতে থাকে। এই হরমোনই শরীরের অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি নিয়ন্ত্রণ করে। কাজেই, তা-ও নেন না অনেক মহিলাই, ফলে চুপিসারে শরীরে বাসা বাঁধে হৃদরোগ।

অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া, অতিরিক্ত স্ট্রেস ইত্যাদিই নারীদের হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম বড় কারণ বলেই মনে করেন চিকিৎসকরা। রজোনিবৃত্তির পর নারীদের ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমতে থাকে। এই হরমোনই শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। রজোনিবৃত্তি পর্বে শরীরের যে যত্ন নিতে হয় তা নেন না অনেক নারীই। আর এতেই চুপিসারে শরীরে বাসা বাঁধে হৃদরোগ। 

নারীরা যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

অতিরিক্ত ক্লান্তিভাব 

রাতে ঘুমিয়েও সকালে ক্লান্তি যাচ্ছে না? পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও ঝিমুনি আসছে? এমন লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হোন। দিনের পর দিন ক্লান্তিভাব যদি বাড়তেই থাকে তাহলে সবার আগে ইসিজি করিয়ে নিন। 

শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা 

হৃদ্‌রোগ মানে যে কেবল বুকে ব্যথা হওয়া তা নয়। নীরব হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে শরীরের আরও কিছু জায়গায় ব্যথা হয়। যেমন- হাত, পিঠ, গলা, কোমর ও চোয়াল। এসব জায়গায় ব্যথা হলে অনেকেই পেশির ব্যথা ভেবে এড়িয়ে যান। বিশেষ করে নারীদের কাঁধ, চোয়াল ও হাতে ব্যথা হতে পারে। 

শ্বাসকষ্ট 

হার্ট অ্যাটাকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো শ্বাসকষ্ট। এমনটা হলে বুকে ব্যথা হবে না, কিন্তু শ্বাস নিতে গেলে বুকে চাপ লাগবে। সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা বা জ্বর না থাকা সত্ত্বেও শ্বাসের সমস্যা হতে থাকবে। এগুলো হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। 

গ্যাস্ট্রিক 

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অতিরিক্ত চেড়ে যাওয়াও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। কিছু খেলেই গা গোলানো, বমি ভাব ও সেসঙ্গে গলা-বুক জ্বালা করার মতো লক্ষণ দেখা দেবে। ওষুধ খেয়েও সমস্যা কমবে না। এমনটা হলে সতর্ক হোন। 

অতিরিক্ত উদ্বেগ 

উদ্বেগ মাত্রা ছাড়াবে। যখন তখন প্যানিক অ্যাটাক হতে পারে। এই লক্ষণকে মানসিক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে চলবেন না। এটি হার্ট অ্যাটাকের আগাম বার্তা হতে পারে। 

ঘুমে ব্যাঘাত 

মাসখানেক ধরে যদি ঘুম কম হয়? বারে বারে ঘুম ভেঙে যেতে থাকে, ঘুমের মধ্যে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়? এসব লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হোন। হতে পারে এটি হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। 

হার্টের রোগ চুপিচুপি মাথাচাড়া দিচ্ছে কি না, তা নির্ণয়ের অনেকগুলো পরীক্ষা আছে। যেমন- অ্যাঞ্জিওগ্রাম, ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম, ইকোকার্ডিওগ্রাম, স্ট্রেস টেস্ট, কার্ডিয়াক এমআরআই। এই পরীক্ষাগুলো করিয়ে রাখলে ভালো হয়। 

সেসঙ্গে ‘সিটি ক্যালশিয়াম স্কোর’ টেস্ট করিয়ে নিলে বোঝা যাবে হার্টে ব্লকেজ হয়েছে কি না। কম বয়সীদের জন্য এই পরীক্ষাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। 

পাশাপাশি জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ আনা জরুরি। সুষম খাবার খাওয়া, জাঙ্ক ফুড কম খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা করলেও হার্ট ভালো থাকবে।