সাজিদ হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধন; ইবির সকল শিক্ষক-ছাত্র সংগঠনের একাত্মতা

সাজিদ হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধন; ইবির সকল শিক্ষক-ছাত্র সংগঠনের একাত্মতা

ছবি: প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদ, গ্রিন ফোরাম ও সাদা দলের শিক্ষকরা মানববন্ধনে এসে একাত্মতা পোষণ করেন। এছাড়াও শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার নেতৃবৃন্দ মানববন্ধনে অংশ নেয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ইউট্যাব ইবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, গ্রিন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ও জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন, শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইউসুব আলী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত এবং জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার সেক্রেটারি এস এম শামীমসহ অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, ভিসেরা রিপোর্টসহ সকল রিপোর্ট অনুযায়ী সাজিদ আব্দুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে এটা প্রমাণিত। আগামী ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে যদি খুনিদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা না হয়, আমরা ভিসি এবং প্রো-ভিসির কার্যালয় ঘেরাও করব। বিচার করতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লাল কার্ড দেখাতে আমরা বাধ্য হব।

সাজিদ হত্যার বিচারের দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করে অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, "সাজিদ হত্যার ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটিতে আমি ছিলাম এবং সেই কমিটি দ্রুতই রিপোর্ট দিতে সক্ষম হয়। যত দ্রুততার সঙ্গে কমিটিকে কাজটি করতে বলা হয়েছিল, সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচারও তত দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশা করেছিলাম। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ছয় মাস পেরোলেও একটি হত্যা মামলার আসামিদের শনাক্ত করতে পারেনি প্রশাসন। সাজিদ হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখব।"

এসময় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, "সাজিদ হত্যার ১৪৫ দিন পার হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি এখনো আমাদের চোখে পড়েনি। প্রশাসনের যদি সদিচ্ছা থাকে ১৪৫ দিনের মধ্যেই খুনিদের শনাক্ত করা সম্ভব ছিল। আমি মনে করি, ইচ্ছাকৃতভাবে এটিকে বিলম্বিত করা হচ্ছে এবং প্রশাসন ব্যর্থ এই বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে। সাজিদ আব্দুল্লাহ আমাদের জুলাই অভ্যুত্থানের একজন অগ্রনায়ক ছিল। তার হত্যার বিচার হচ্ছে না। অন্যদিকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে চিহ্নিত ফ্যাসিস্টদের স্বপদে বহাল রেখেছে এই প্রশাসন। আগামীতে সাজিদ হত্যাকাণ্ডসহ যে-কোনো ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পৃক্ত থাকবো এবং ঐকমত্য পোষণ করব।"

গ্রিন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল না যে সাজিদ হত্যার পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে হবে। আমি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির সদস্য ছিলাম। আমরা নির্ধারিত সময়ে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। ভেবেছিলাম রিপোর্ট দেওয়ার পরে অতিদ্রুত একটা সুষ্ঠু সমাধান হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আজকে পর্যন্ত ছাত্রদেরকে আন্দোলনে নামতে হয়েছে। সিআইডিতে মামলার কাজ করছে। কিন্তু পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সিআইডি কেন প্রকৃত সত্য সামনে আনতে পারছে না? আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে অতিদ্রুত শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা নিরাপদ ক্যাম্পাসে বসবাস করতে চাই।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই বিকেল শাহ আজিজুর রহমান হল পুকুর থেকে আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ বর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদের লাশ উদ্ধার করা হয়। ভিসেরা রিপোর্ট অনুযায়ী সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।