কুমিল্লার জগতপুরে একাত্তরের গণকবর মহাসড়কের নিচে, স্মৃতিফলকও নেই
সংগ্রহীত ছবি
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি গণকবর আজ আর দৃশ্যমান নেই। ফোর লেন প্রকল্পে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক সম্প্রসারণের সময় ৭১-এর স্মৃতিবাহী সেই গণকবরের ওপর দিয়েই নতুন সড়ক নির্মাণ হওয়ায় কবরটি চাপা পড়ে গেছে। হারিয়ে গেছে স্থাপিত স্মৃতিফলকটিও। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীদের মতে, বিগত সরকারের আমলে সড়ক নির্মাণ শ্রমিকরা গণকবর চিহ্নিত সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলে কাজ চালিয়ে যায়।
স্থানীয় একাধিক মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ বাসিন্দা জানান, ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর যৌথ দল ভুশ্চি থেকে উৎসবপদুয়া ও হরিশ্চর হয়ে লাকসামের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এ সময় তাদের কাছে খবর আসে, লাকসাম থেকে একটি বাস রাজাকারদের নিয়ে কুমিল্লার দিকে যাচ্ছে। মিত্রবাহিনী হরিশ্চর রেলগেটের পূর্ব পাশে পৌঁছে মহাসড়ক দিয়ে কুমিল্লামুখী একটি বাস দেখে সেটিকে লক্ষ্য করে ব্লান্ডার সাইড নিক্ষেপ করে। মুহূর্তেই বাসে থাকা সকল যাত্রী নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের স্বজন এসে মরদেহ নিয়ে গেলেও অধিকাংশই বেওয়ারিশ রয়ে যায়।
পরে জগতপুর গ্রামের আইউব আলী, আনছর আলী, রুস্তম আলী ও কোরবান আলীসহ কয়েকজন স্থানীয় মানুষ সড়কের পাশে গর্ত খুঁড়ে গণকবর দেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমিনুল হক বলেন, তখন খবর ছিল বাসটিতে রাজাকার ছিল। কিন্তু পরে জেনেছি বাসটিতে নাঙ্গলকোটসহ দক্ষিণাঞ্চলের কিছু ব্যবসায়ী কুমিল্লা চকবাজারে যাওয়ার পথে ছিলেন।
সাধারণ মানুষই নিহত হয়েছিলেন।
লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু কালের কণ্ঠকে বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমেই বিষয়টি জানতে পেরেছি। ১৩ ডিসেম্বরের আগেই গণকবর শনাক্ত করে স্মৃতি ফলক স্থাপনের উদ্যোগ নেব।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর বৃহত্তর লাকসাম (লাকসাম, লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ) অঞ্চলকে পাক হানাদারমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এর মাত্র দুদিন পর ঘটে এই মর্মান্তিক গণহত্যার ঘটনা।